News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

এপ্রিলের বিল ২ হাজার জুনের বিল ১২ হাজার


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | বিশেষ প্রতিনিধি প্রকাশিত: জুলাই ২২, ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম এপ্রিলের বিল ২ হাজার জুনের বিল ১২ হাজার

হুমকী ধমকী ভয়ভীতি প্রতারণার মাধ্যমেও নারায়ণগঞ্জ শহরের বেশীরভাগ এলাকায় প্রিপেইড মিটার না লাগাতে পেরে এবার গ্রাহকদের ভুতুড়ে বিলে দিচ্ছে ডিপিডিসি কর্তৃপক্ষ এমন অভিযাগ ভুক্তভোগী গ্রাহকদের। মঙ্গলবার দুপুরে ‘জোরপূর্বক প্রিপেইড মিটার চাইনা’, প্রিপেইড মিটার বাতিলের দাবিতে গ্রাহক সমাবেশ থেকে এই ধরনের অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা। পরে তারা এ বিষয়ে স্মারকলিপি প্রদানকালে ডিপিডিসির দক্ষিণের প্রধান প্রকৌশলীসহ উর্ধ্বতনদেরও অবহিত করে। তারা এসময় অভিযোগ তোলেন প্রিপেইড মিটার লাগাতে আপত্তি জানানোয় তাদেরকে অতিরিক্ত বিল দিয়ে হয়রানি করছে ডিপিডিসি কর্তৃপক্ষ।  

অভিযোগে জানা গেছে, গ্রাহক সমাবেশে চাষাঢ়া বাগে জান্নাত পঞ্চায়েত পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক শরীফ সুমন অভিযোগ করেন তারই এলাকার এক ফ্ল্যাটের মালিক গোকুল কৃষ্ণ পালের গত জানুয়ারী মাসে বিল এসেছে ২ হাজার ২২৮ টাকা। ফেব্রুয়ারীতে বিল এসেছে ১ হাজার ৪৬৩ টাকা। মার্চ মাসে বিল এসেছে ১ হাজার ৮৫৩ টাকা। এপ্রিল মাসে  বিলে এসেছে ২ হাজার ২১ টাকা। মে মাসে ওই গ্রাহককে বিল দিয়েছে মাত্র ৮৮ টাকা। অথচ জুন মাসে ওই গ্রাহককে বিল দিয়েছে ১২ হাজার ৪৯২ টাকা। ওই গ্রাহক সমাবেশে একই ধরনের অভিযোগ করেন অসংখ্য ভুক্তভোগী। বিগত এপ্রিল মে মাসের তুলনায় তাদেরকে জুন মাসের বিল দ্বিগুনেরও বেশী দেয়া হয়েছে। এছাড়াও প্রিপেইড মিটার লাগাতে না চাওয়ায় গ্রাহকদের ভয়ভীতি, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়াসহ নানা ধরনের হুমকী ধমকী দেয়া হয়েছে। অপর এক গ্রাহক জানান, তিনি রাজধানী ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করেন। কয়েকদিন আগে তার বসতবাড়িতে প্রিপেইড মিটার লাগানোর জন্য ডিপিডিসির কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী যায়। তখন তাকে ডিপিডিসির লোকজন জানায় আশেপাশের সকল ভবন মালিকরা প্রিপেইড মিটার লাগিয়ে ফেলেছে। সে যদি না লাগায় তাহলে তার ভবন বিদ্যুৎহীন থাকবে। তাকে ভয়ভীতি দেখানোর পরে তিনি প্রিপেইড মিটার লাগানোর অনুমতি দেন। পরে এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন আশেপাশের কোন ভবন মালিকই প্রিপেইড মিটার লাগায়নি। ডিপিডিসির লোকজন তাকে ভয়ভীতি প্রতারণার মাধ্যমে প্রিপেইড মিটার লাগাতে বাধ্য করেছে। তিনি সেই ভোগান্তির প্রিপেইড মিটার অপসারণের দাবি জানান। এছাড়াও গ্রাহক সমাবেশে বক্তারা বলেন, পূর্বে মিটার রিডাররা ১০ থেকে ১২ তারিখের মধ্যে বাড়ি বাড়ি বিল পৌঁছে দিতো। কিন্তু চলতি জুলাই মাসের ২০ তারিখ পেরিয়ে গেলেও অনেকের বাড়িতে বিল পৌঁছে দেয়া হয়নি।

এদিকে গ্রাহক সমাবেশ ও মানববন্ধনের পরে ডিপিডিসির প্রধান প্রকৌশলীর (দক্ষিণ) বরাবরে স্মারকলিপি প্রদানকালেও ভুক্তভোগী গ্রাহকরা ও বিভিন্ন এলাকার প্রতিনিধিরা এ ধরনের অতিরিক্ত ভুতুড়ে বিল আসার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ডিপিডিসির প্রধান প্রকৌশলী (দক্ষিণ) কামাল হোসেন এ ধরনের অতিরিক্ত বিল আসা কাগজ নিয়ে তার দফতরে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দেন। এসব ভুতুড়ে বিলের কাগজ তারা সংশোধন করে দিবেন বলেও জানান।