News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

রাইফেল ক্লাব চালু হচ্ছে


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: জুলাই ১৮, ২০২৬, ০৮:৩০ পিএম রাইফেল ক্লাব চালু হচ্ছে

নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়ায় অবস্থিত রাইফেল ক্লাব একসময়ে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শ্যুটিং ও ক্রীড়া প্রতিষ্ঠান ছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ক্লাবটি অলিখিতভাবে নিজের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করতেন।

২০২৪ এর জুলাই আন্দোলনের সময়ে বিক্ষুব্ধ জনতা এ ক্লাবটি জ¦ালিয়ে দেয়। এর পর থেকেই এটা পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে।

শ্যুটিং ফেডারেশনের নিয়ম রক্ষা ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে বর্তমানে ক্লাবটি আবার নতুন করে চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পদাধিকার বলে রাইফেল ক্লাবের সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবিরের অনুমতিতে এবং সিনিয়র কয়েকজন সদস্যের উদ্যোগে ক্লাবটি আবারও চালু হতে যাচ্ছে। সেই সাথে আগের থেকে আরও অবস্থানে ফিরবে বলে তারা আশা প্রকাশ করছেন। একসময় এটি সন্ত্রাসের আখড়া থাকলেও এবার আর সেটা হবে বলে তারা জানিয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জের ব্যাবসায়ী থেকে শুরু করে সাত খুন মামলায় ফাঁসির আসামি নূর হোসেনের মত সন্ত্রাসীরাও রাইফেল ক্লাবে শামীম ওসমানের কাছে হাজিরা দিত।

পরবর্তীতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র জনতার উপর গুলিবর্ষণের ঘটনায়ও আলোচিত ছিল রাইফেল ক্লাব। ১৯ জুলাই শতশত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী নিয়ে আন্দোলন দমন করতে নামেন শামীম ওসমান। এসময় অত্যাধুনিক সব অস্ত্র ব্যাবহার করতে দেখা যায় শামীম ওসমান ও তার অনুসারীদের। এসকল অস্ত্র রাইফেল ক্লাব থেকেই নিয়ে আসেন শামীম ওসমান।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসকল ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে জনসাধারণের মাঝে চরম ক্ষোভ দেখা যায়। আন্দোলনের দ্বিতীয় দফায় ২০২৪ সালের ৪ আগষ্ট ক্ষুদ্ধ আন্দোলনকারীরা শহরের রাইফেল ক্লাবে হামলা চালায়। এসময় তারা শামীম ওসমানের ব্যানার, ফেস্টুন ও ছবি ভাংচুর করে। একপর্যায়ে রাইফেল ক্লাবে অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষুব্ধ জনতা। সেই সাথে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। শামীম ওসমান দেশ ছাড়েন। এরপর থেকেই পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিলো শহরের ঐতিহ্যবাহী রাইফেল ক্লাবটি।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাবের সিনিয়র সদস্য ও সাবেক শ্যূটার এম এ সাত্তার ভুট্টু বলেন, আমরা জেলা প্রশাসকের কাছে গিয়েছিলাম। ডিসি সাহেব আমাদের বলেছেন পরিস্কার করে বসেন। রোড অ্যান্ড হাইওয়ে নেয়ার পর যতটুকু থাকে ততটুকু জায়গা সংস্কার করে বসেন। ডিসি সাহেবের কথা অনুযায়ী যেটুকু জায়গা পাই সেটুকু জায়গার মধ্যে শুটিং চালু করতে চাই। শুটিং ফেডারেশন আমাদের শর্ত দিয়েছে রাইফেল ক্লাব না থাকলে সদস্যপদ থাকবে না। আমরা বিষয়টি ডিসি সাহেবের কাছে উপস্থাপন করেছি। তিনি আমাদেরকে এটা পরিস্কার করে বসার একটা ব্যবস্থা করতে অনুমতি দিয়েছেন।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, রাইফেল ক্লাব আগের থেকে ভালোভাবে চালু হবে। কারণ রাইফেল ক্লাব কোনো রাজনৈতিক ক্লাব না। রাইফেল ক্লাব স্পোর্টস ক্লাব। এখানে যারা আসেন সকলেই ভদ্র শিক্ষিত লোক। আশা করি আগের থেকে ভালো করবো।

শামীম ওসমানের সন্ত্রাসের আখড়া বানানোর বিষয়টি উল্লেখ করে সাত্তার ভুট্টু বলেন, আমি ১৯৭৮ সাল থেকে এই রাইফেল ক্লাবের সাথে জড়িত। আমরা যখন ছিলাম তখন সন্ত্রাস বাহিনী এখানে ঢুকতে সাহস করেনি। এটা প্রথমে নাসিম ওসমান সেলিম ওসমান শামীম ওসমান মেম্বার হিসেবে করতো। এই ব্যবহার করতে করতে একসময়ে এটাকে সন্ত্রাসের আকড়ায় পরিণত করলো। আমরাও যেহেতু রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলাম। যার কারণে আমাদের আসতে দিতো না। অনেক সময় দেশের বাহিরে থাকতে হয়েছে তাদের ভয়ের কারণে। আমরা কয়েকজন মিলে চালু করার উদ্যোগ নিয়েছি।