নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার বন্দর ইউনিয়নের তিনগাঁও এলাকায় লোকালয়ে একটি বড় আকৃতির কুমিরের দেখা মিলেছে। এখনো সেটা উদ্ধার না হওয়াতে আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে ২২ সেপ্টেম্বর বিকেলে পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিবানী সরকার। তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন এবং আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।
স্থানীয়রা জানায়, প্রথমে একটি পুকুরে কুমিরটি দেখা যায়। পরে সেটি পাশের আরেকটি পুকুরে চলে যায়। গত রোববার রাতেও কুমিরটিকে গ্রামের রাস্তা ও আশপাশের এলাকায় ঘুরতে দেখা যায়। পরে এটি আবার একটি পুকুরে আশ্রয় নেয়। বর্তমানে কচুরিপানায় ভরা ওই পুকুরেই কুমিরটির অবস্থান বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কুমিরের উপস্থিতির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর স্থানীয়দের চলাচল কমে গেছে। কুমির দেখতে উৎসুক মানুষও বিভিন্ন স্থান থেকে সেখানে ভিড় করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে।
বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিবানী সরকার জানান, তিনগাঁও এলাকায় লোকালয়ে কুমির দেখা যাওয়ার খবর পেয়ে বন্দর থানার পুলিশ ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। পরে বিষয়টি ঢাকার বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে জানানো হয়। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ অধিদপ্তরের একটি দলও সেখানে গিয়ে কুমির উদ্ধারের চেষ্টা করে।
তিনি বলেন, বর্তমানে কুমিরটি একটি পুকুরে অবস্থান করছে বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে। সেটিকে উদ্ধারের জন্য আবারও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা এলাকায় আসবেন। কুমিরটি কীভাবে লোকালয়ে এলো, সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ বিষয়ে বন্দর উপজেলা বন কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, বন বিভাগ ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা কুমিরটি ধরার চেষ্টা করেছেন। পরে ঢাকার বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী দলও পুকুরে জাল ফেলে উদ্ধারের চেষ্টা করে। তবে কুমিরটি ধরা সম্ভব হয়নি।
বন্দর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আল মাহমুদ হাসান বলেন, কুমিরটি দেখে মিঠাপানির কুমির বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ধরনের কুমির সাধারণত শান্ত প্রকৃতির হলেও বন্য প্রাণীর আচরণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় না। তাই নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা জরুরি। কুমিরটি যে পুকুরে অবস্থান করছে সেটি কচুরিপানায় ভরা। ফলে কুমিরটির অবস্থান শনাক্ত করতে সমস্যা হচ্ছে। অবস্থান নিশ্চিত করা গেলে উদ্ধারের কাজ সহজ হবে।






































আপনার মতামত লিখুন :