News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

অস্ত্রবাজের অবৈধ উদ্ধার হয়নি


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬, ১০:১৬ পিএম অস্ত্রবাজের অবৈধ উদ্ধার হয়নি

বন্ধন পরিবহনের দখল নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষের সময়ে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি করা যুবক রাসেলের ব্যবহৃত সেই অবৈধ অস্ত্রটি উদ্ধার হয়নি। ২০২৪ এর ২২ সেপ্টেম্বর সংঘর্ষে প্রকাশ্যে রাসেল গুলি ছুড়েন। ওই ঘটনায় দুটি পক্ষের দায়েরকৃত মামলার উভয়েই রাসেলকে আসামী হয়। বেশ কয়েকদিন তিনি আত্মগোপনে থেকে পরে আদালত থেকে জামিন নেন। এর পর থেকে তাকে খুব একটা দেখা যায়নি। তবে ২০২৫ এর জুলাইতে নারায়ণগঞ্জে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা আসলে সেখানে তিনি সেলফি তুলে আলোচনায় আসেন।

রাসেলের বাড়ি মাসদাইর গুদারাঘাট এলাকায়। সে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাকির খানের সমর্থক এবং মাসদাইর এলাকার চিহিৃত মাদক ব্যবসায়ী। প্রায় বছর ছয়েক পূর্বে ফতুল্লা থানা পুলিশের কাছে প্রায় ২৪ শত ফেন্সিডিলসহ গ্রেফতার হয়েছিলো সে। এছাড়াও থানায় তার নামে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। রাসেল ও কাইল্লা রাসেল সবসময় নিজের সাথে একটি চাকু রাখতো বলে এলাকাতে সবাই তাকে চাকু রাসেল হিসেবে জানেন।

জানা যায়, বিগত বিএনপির আমলে বন্ধন পরিবহন থেকে সিটি বন্ধন পরিবহনের বাস ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটের চলাচল শুরু করে। ওইসময়ে ক্রসফায়ারে নিহত মমিনউল্লাহ ডেভিডের ভোট ভাই ও মহানগর বিএনপি সদস্য মাহবুব উল্লাহ তপন বন্ধন পরিবহনের চেয়ারম্যান ছিলেন। ২০১৩ সালে মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি জুয়েল হোসেন বন্ধন পরিবহন বিলুপ্ত করে সিটি বন্ধন পরিবহনের চেয়ারম্যান হন। এতে পরিবহনের এমডি ও কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আইয়ূব আলীর নিয়ন্ত্রণে বন্ধন বাস চলাচল করে। ৫ আগষ্ট আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর বিএনপি দুই গ্রুপ পরিবহনটি দখলে নজর দেন। প্রথম পর্যায়ে বিএনপি নেতা কারাবন্দি জাকির খানের সমর্থক লিটন ও দেলোয়ার বন্ধন পরিবহন দখলে নেয়।

২০২৪ এর ২২ সেপ্টেম্বর দুপুরে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে গিয়ে বন্ধন পরিহনের কয়েক বাস হতে সিটি বন্ধন এর নাম পরিবর্তন করে শুধু বন্ধন পরিবহন লিখে দেয় তপনের ভাগ্নে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক সাখাওয়াত হোসেন রানা সহ অনুসারী পরিবহন নেতারা। ওই সময়ে তারা ৫৬ টাকা ভাড়ার স্থলে ৫৪ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করেন।

দুপুর ২টার দিকে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কারাবন্দী জাকির খানের কর্মী মহানগর স্বেচ্ছাসেবকদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া, দাদা সেলিম, লিংকন, সনেটের নেতৃত্বে শতাধিক নেতাকর্মীরা ঝটিকা হামলা করে। এতে বন্ধন পরিবহনের কাউন্টারে থাকা বাস মালিক রুহুল আমিনকে পিটান হামলাকারীরা। এরপর নারায়ণগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন পরিবহন কার্যালয়ে ভাংচুর চালায় ও নেতাদের মারধর করে। পরে বন্ধন পরিবহনের কাউন্টার ও চেয়ার ভাংচুর চালায় খানের সমর্থকরা। খবর পেয়ে মহানগর বিএনপি আহবায়ক কমিটির সদস্য মাহবুব উল্লাহ তপন ও তার ভাগ্নে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক সাখাওয়াত হোসেন রানার নেতৃত্বে তাদের লোকজন জাকির খানের লোকজনকে ধাওয়া দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এসময় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে গোটা এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এরপর দুইপক্ষই আহতদের নিয়ে সদর মডেল থানায় অভিযোগ দিতে যায়। থানা থেকে বের হওয়ার পরে আবারো দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।