নারায়ণগঞ্জ শহরে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলজুড়ে বিবি রোডে দাপিয়ে বেড়িয়েছে হকার নামক দখলদারেরা। শামীম ওসমানের সহযোগীতায় হকার্স লীগ গঠন করে হকারদের দেয়া হয়েছে রাজনৈতিক পরিচয়। প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় হয় এই হকারদের কাছ থেকে যা ভাগ হয়ে যেত আওয়ামী লীগ নেতা ও কতিপয় সরকারি অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীদের কছে।
৫ আগস্টের পর নারায়ণগঞ্জ থেকে পালিয়ে যায় হকার্স লীগের নেতারা। যারা সারাবছর চাঁদাবাজির পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনে ছাত্র জনতার উপর হামলার কাজেও যুক্ত ছিলো। এর মধ্যে হকার্স লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল ইসলাম আসাদকে র্যাব গ্রেপ্তারও করেছিলো। তবে হকার্স লীগের সভাপতি ও চাঁদাবাজ রহিম মুন্সি থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে।
রহিম মুন্সি আসাদের দোর্দান্ড উত্থান ঘটে ২০১৮ সালে সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর উপর হামলার মধ্য দিয়ে। সেসময় ওসমান বাহিনীর সাথে এই হকার্স লীগের নেতাকর্মীরা অংশ নেয় এবং আইভী সহ হকার উচ্ছেদ করতে আসা কর্মকর্তাদের আহত করে। শামীম ওসমানের আর্শীবাদ নিয়ে ধরাকে সরা জ্ঞান করে দাপট চলতে থাকে আওয়ামী লীগের পুরো ক্ষমতাকাল জুড়ে। এর মধ্যে হকার খুনের সাথেও জড়িয়ে পড়ে আসাদ। সব মিলিয়ে শহরে দখলদারিত্বের রাম রাজত্ব কায়েমে শামীম ওসমানের বিশ্বস্থ লোক হিসেবে কাজ করে যায় রহিম মুন্সি, আসাদের মত হকার্স নেতারা।
৫ আগস্টের পর হকার্স লীগ পালিয়ে গেলেও নতুন করে গজায় হকার্স দল নামে নতুন সংগঠন। মহানগর শ্রমিক দলের নেতারা হকার্স দল নামে নতুন সংগঠন তৈরী করে নারায়ণগঞ্জ শহরে থাকা হকারদের রাজনৈতিক পরিচয় দাঁড় করায়। এতদিন যারা শামীম ওসমানের সভা সমাবেশে যেত, তারাই এখন বিএনপির পরিচয় ধারন করে বিএনপির সভা সমাবেশে যাওয়া শুরু করে। নতুন হকার নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন আবু আল বেলাল খান বিল্লাল ও মুসা মিয়া। হকার্স দলের সভাপতি সেক্রেটারি পরিচয় ধারন করে পূরণ করেন সেই কুখ্যাত রহিম মুন্সি ও আসাদের স্থান।
ফুটপাতের হকাররা ঠিক রহিম মুন্সি আর আসাদের মতই বিল্লাল ও মুসা মিয়ার কথায় উঠবস শুরু করে। যাবতীয় সব সমস্যার সমাধানে ছুটে যান এই দুই নেতার কাছে। তারাই সমাধান করেন সব। অভিযোগ রয়েছে, হকারদের জেনারেটর লাইন আর কারেন্টের লাইন দেয়ার নাম করে নেয়া হয় টাকা। অথচ ফুটপাতে হকারদের বৈদ্যুতিক লাইন সরবরাহের কোন অনুমতিই নেই। মূলত এসব লাইনের অজুহাতে চাঁদাবাজির টাকা ভিন্ন কৌশলে নেয়া হয়।
তবে রহিম মুন্সি আর আসাদের মত কুখ্যাত চাঁদাবাজ যেন নতুন করে এই শহরে না জন্মায় সেজন্য প্রতিরোধের আহবান জানিয়েছে সব মহল। তারই ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জে হকার উচ্ছেদের ঘোষণা দিয়েছেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান। তিনি জানিয়েছেন, অচিরেই এই হকার উচ্ছেদে অভিযান চালানো হবে। এতে বাঁধা দিলে কিংবা নির্দেশনা অমান্য করলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তবে ৫ আগস্টের পর থেকে এখন পর্যন্ত শহরকে অবরুদ্ধ করে রাখা হকারদের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু সাউদ মাসুদ বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে চলা হকার চাঁদাবাজদের গান্ধী পোকা আখ্যা দেন। তিনি বলেন, ‘এদের নির্মূল করতে হবে। অন্যথায় এরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে।’ তার সেই বক্তব্যের পর ইতোমধ্যে মহানগর হকার্স দল কমিটি বিলুপ্ত করেছে শ্রমিকদল। এমন ভুইফোড় সংগঠন যেন আর গড়ে না উঠে সেই আশা ব্যক্ত করেছেন সচেতন নাগরিকরা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রহিম মুন্সি আর আসাদরা পালিয়ে গেলেও সেই স্থান পূরণ যারা করেছিলো, তারা এতদিনে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে কেবল এই ফুটপাতকে ঘিরে। দ্রুত ভিত্তিতে এই সিন্ডিকেট চক্র ভেঙ্গে দেয়া প্রয়োজন। সেই সাথে হকার উচ্ছেদের পর নতুন করে কোন উছিলা বা আন্দোলন করে যেন এরা সংগঠিত হতে না পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখা জরুরী।




































আপনার মতামত লিখুন :