জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন ছাত্রদল এখনও ছন্নছাড়া অবস্থায় রয়েছে। জেলা ও মহানগর কমিটি বিহীন অবস্থায় চলছে কার্যক্রম। কলেজ কমিটি দিয়ে নিজেদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে তারা। কিন্তু নির্বাচনের পর এখন পর্যন্ত জনসম্পৃক্ত কোন কর্মসূচিতে দেখা যায়নি ছাত্রদলকে। রোজায় ইফতার মাহফিল আর সামগ্রী বিতরণের মত সেবামূলক কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছেন নিজেদের।
তবে নির্বাচনের পর জনমুখী কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নেমে আলোচনায় এসেছে বিরোধী দলের ভুমিকায় থাকা জাতীয় ছাত্রশক্তি। নির্বাচনের পর ইফতার মাহফিল আয়োজন, ঈদ সামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি জনকল্যাণমুখী আন্দোলন গড়ে এবং সেই দাবি বাস্তবায়ন করে নিজেদের ব্যতিক্রমী ভাবে তুলে ধরেছে তারা। নিজেদের পরিচিত করেছে আলাদাভাবে।
নারায়ণগঞ্জ শহরে ছাত্রদলের পরেই বৃহৎ সংগঠন হিসেবে ভাবা হয় ছাত্র শিবিরকে। কিন্তু ছাত্র শিবির নির্বাচনের পর থেকে একেবারেই নিষ্ক্রিয়। কমিটি থাকার পরেও কার্যক্রম নেই বললেই চলে। অন্যদিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দাবি, কমিটি না থাকায় সেভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে না। নেতৃত্ব কে দিবে এই প্রশ্নে সরাসরি কোন কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারছেন না তারা। অপেক্ষায় আছেন কমিটির। আনুষ্ঠানিক কমিটি পেলেই ছাত্র কল্যান মূলক কর্মসূচিতে এগিয়ে আসবেন বলে জানান।
তবে কমিটি না থাকলেও অঘোষিত এক কর্মসূচি পালন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে ছাত্রদল। সম্প্রতি চট্টগ্রামে গুপ্ত শব্দ লেখাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্র শিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে গুপ্ত শব্দটি লিখে ছাত্র শিবিরকে সমালোচনা করা শুরু করে। বিভিন্ন ক্যাম্পাসে এই লেখাকে কেন্দ্র করে ফের সংঘাত সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে।
তবে রাজনীতিতে নারায়ণগঞ্জ শহরের অবস্থান ব্যতিক্রম। তুলনামূলক সহনশীল আচরণের জন্য সুনাম রয়েছে। সেদিক থেকে ছাত্রদল তোলারাম কলেজে গুপ্ত লেখন কর্মসূচি পালনকে রাজনীতিতে ঘৃণার চর্চা হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। জনসম্পৃক্ত বা ছাত্রদের কল্যাণমূলক কাজে যুক্ত না থাকলেও ঘৃণাচর্চার কর্মসূচিতে ঠিকই পাওয়া গেছে ছাত্রদলকে।
অন্যদিকে নির্বাচনের পর পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় ইসলামী ছাত্র শিবির। দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ছাত্র শিবিরের ব্যক্তিক্রমী কর্মসূচি দেখা গেলেও নারায়ণগঞ্জে তার ছিটেফোঁটা দেখা যায়নি। নেই কোন সেমিনার কিংবা শিক্ষার্থী বান্ধব কোন কর্মসূচি। যা দেখে হতাশ নারায়ণগঞ্জের শিক্ষার্থীরা। প্রধান দুটি বৃহৎ ছাত্র সংগঠনের এমন হাল হতাশ করেছে সবাইকে।
তবে ছাত্র সংগঠনে থেকে ভিন্ন পথে হেটেছে ছাত্রশক্তি। সম্প্রতি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের দাবিকে ঘিরে সরব হয় এই সংগঠনের নেতাকর্মীরা। সবশেষ বৃহস্পতিবার আন্দোলন করে জেলা প্রশাসনকে এক প্রকার বাধ্য করে এই কাজে দ্রুত এগিয়ে নিতে। একই সাথে যতদিন ব্রিজ না হয় ততদিন এখানে জেব্রা ক্রসিং, সাইনবোর্ড স্থাপন ও গতিরোধক নির্মাণ নিশ্চিত করেন। ছাত্রশক্তির এমন উদ্যোগে জেলাজুড়েই প্রশংসা পাচ্ছে তারা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, গতানুগতিক লেজুরবৃত্তি রাজনীতির বাইরে এসে ছাত্রশক্তি যেই উদ্যোগ নিয়েছে তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। সেই সাথে এই ঘটনা স্বরণ করিয়ে দেয় যে ছাত্রসংগঠনের কাজ কেবল মূল দলে লোকবল সাপ্লাই দেয়া নয়। বরং নিজ উদ্যোগে কল্যাণমূলক কাজে অংশগ্রহণ করা।


































আপনার মতামত লিখুন :