বিদেশে বসে দেশের রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার যখন চেষ্টা করে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি শামীম ওসমান। সে সময়ে নারায়ণগঞ্জে তার অনুসারীদের গ্রেপ্তারে আতঙ্কে পড়ে গেছে দেশে থাকা নেতা-কর্মীরা। এদিকে শামীম ওসমান পরিবার যখন দুবাই বসে আলোচনা মুগ্ধ তখনই তার অনুসারি কাউন্সিলর ও মেম্বার গ্রেপ্তারে আবারো রাজনীতি মাঠ পর্যায়ে পিছিয়ে পড়ে যাওয়া আশঙ্কা করছে। গ্রেপ্তার কাউন্সিলর সিরাজ মন্ডল ও মেম্বার আ. জলিলের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা ফতুল্লার এনায়েতনগর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের মেম্বার আ. জলিলকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার দায়ের করা একটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল। গ্রেফতারের পর র্যাব-১১ তাকে ফতুল্লা মডেল থানায় হস্তান্তর করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। মেম্বার আ. জলিল ছিলেন সাবেক এমপি শামীম ওসমান আস্থাভাজন। এনায়েতনগর ইউনিয়নে জলিল মেম্বার এমপি নাম ভেঙ্গে প্রভাব ছিলো আলোচিত।
অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যকরি সদস্য, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি ও সিটি কর্পোরেশনের ৬নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম মন্ডলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আত্মগোপনে থাকা পর ৬নং ওয়ার্ডের এসও রোড এলাকায় তার বাড়িতে অবস্থান পর পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতাকালে সিদ্ধিরগঞ্জ চোরাই তেলের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে ছিলেন প্রথম সারিতে। শামীম ওসমানের নিদের্শে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনের চেষ্টা এবং চোরাই তেলের সিন্ডিকেট পুনরায় নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ ছিলো তার বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, গত ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে তার বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় একাধিক মামলা হলেও তিনি এতদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, সিরাজুল ইসলাম মন্ডলের বিরুদ্ধে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো এবং মাস্টারমাইন্ড হিসেবে ভূমিকা রাখার অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ৯টি ও যাত্রাবাড়ি থানায় একটি মামলা রয়েছে। এছাড়াও গত ১৭ বছরে শামীম ওসমানের ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জের এসও এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম এবং অবৈধ জ্বালানি তেলের ব্যবসা পরিচালনার মাধ্যমে বিপুল সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স¤প্রতি যৌথবাহিনী তার গোডাউন থেকে ৯ হাজার ১০০ লিটার অবৈধ জ্বালানি তেল উদ্ধার করেছিল।


































আপনার মতামত লিখুন :