News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা মঙ্গলবার, ০৫ মে, ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩

হকারদের পক্ষে এবার জুয়াড়ি চাঁদাবাজ


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: মে ৪, ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম হকারদের পক্ষে এবার জুয়াড়ি চাঁদাবাজ

নারায়ণগঞ্জ শহরের ফুটপাত হকারমুক্ত রাখতে মাঠে কাজ করছেন বিতর্কিত ব্যক্তিরা। এর মধ্যে গণসংহতির নেতা অঞ্জন দাস, সিপিবি নেতা ইকবাল হোসেনের পর যুক্ত হয়েছেন বিতর্কিত জুয়ারি শাহজাহান ওরফে ছোট শাহজাহান। এ শাহজাহানের বিরুদ্ধে শহরে বিদ্যুৎ চুরি সহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।

বিকল্প ব্যবস্থা বা পুনর্বাসনের দাবিতে রোববারও শহরে মহানগর জাতীয়তাবাদী হকার্স ইউনিয়নের ব্যানারে মিছিল করেছে শত শত হকাররা। এ সময় স্থানীয় এমপি, সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও প্রশাসনকে নিয়ে জোরালো বক্তব্যে রাখেন। সেখানে বক্তব্য রাখেন শাহজাহান। ২০২০ সালের ২৬ অক্টোবর ফুটপাত দখল করে বসা হকারদের কাছ থেকে চাঁদা তোলার সময় গ্রেপ্তার হন। ওই সময় ডিবি পুলিশ তার কাছ থেকে চাঁদাবাজির নগদ টাকাও জব্দ করে। এছাড়া তিনি জুয়ারি হিসেবেও বেশ খ্যাত। কালিরবাজার, লঞ্চঘাট, মাছঘাট এলাকায় সড়ক ও ফুটপাত দখল করে বসা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হকারদের কাছ থেকে চাঁদা তোলেন। জুয়ার বোর্ডও নিয়ন্ত্রণ করেন এই শাহজাহান।

বিগত আওয়ামীলীগ সরকার আমলে শহরের প্রধান প্রধান সড়কগুলোর ফুটপাতে হকারদের বীরদর্পে ছিলো। তৎকালীন এমপি শামীম ওসমান ও তার অনুসারীদের ছত্রছায়ায় হকারদের দখলে ছিলো ফুটপাত। অন্তবর্তী সরকার আমলেও ফুটপাতে এক লেনের স্থানে পুরো ফুটপাতের জায়গা দখলে নেয় হকাররা। এতে দিনে দিনে নগরবাসী চলাচলে বিঘœ সৃষ্টিতে ফুটে উঠে সাধারণ মানুষ। এদিকে ফুটপাতে হকারমুক্ত ও শহরের যানজট মুক্ত করণে নগরবাসী দাবি ছিলো জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে। যার ওয়াদা বাস্তবায়নে ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার গঠন করে। এর এক সপ্তাহে ব্যবধানে ২৫ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব নেন মহানগর বিএনপি আহবায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান। প্রায় এক মাস বিএনপি, বিরোধী দল, বাম পন্থী দল সহ নগরবাসীদের নিয়ে দফা দফা বৈঠকে হকার উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। যার ফলে ১৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন, বিএনপি, জামায়াত, বাসদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, প্রশাসন ও ব্যবসায়ী সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে শহরের প্রধান সড়ক ও ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদ অভিযান করা হয়। যানজট নিরসন এবং 'গ্রিন ও ক্লিন' নারায়ণগঞ্জ গড়ার লক্ষ্যে আয়োজিত এই উদ্যোগে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীদের সমন্বিত অংশগ্রহণ দেখা গেছে। বিভিন্ন দলের নেতাকর্মী ও সামাজিক সংগঠন যৌথভাবে এ উচ্ছেদ পরিচালনা করা হয়। এতে নারায়ণগঞ্জ শহরের যানজট নিরসন এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করে হাঁটার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা। উচ্ছেদ এলাকা বঙ্গবন্ধু সড়ক, চাষাড়া এবং শহরের প্রধান প্রধান সড়কের ফুটপাত। উচ্ছেদের ফলে ফুটপাত দখলমুক্ত হওয়ায় পলিথিন বর্জ্য কমেছে এবং পরিবেশের উন্নতি হয়েছে। জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে এই উচ্ছেদ অভিযান যেন স্থায়ী হয় এবং কোন দলের সমঝোতায় হকাররা আবার ফিরে না আসে, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন কাজ করছে।

নারায়ণগঞ্জের ফুটপাত থেকে উচ্ছেদকৃত অবৈধ হকারদের পক্ষ নিয়ে মাঠে নেমেছেন বাম নেতারা। তাদের সাথে যোগ দিয়েছেন বর্তমান সরকারের জোটভুক্ত গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলার নির্বাহী সমন্বয়কারী অঞ্জন দাস। গত ১৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের আহবানে সাড়া দিয়ে যখন নারায়ণগঞ্জের সকল রাজনৈতিক নেতারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে হকার উচ্ছেদ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন সেদিন অঞ্জন দাস নিজেও চাষাঢ়াতে অংশ গ্রহণ করে হকারদের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখেন। মাত্র ৭দিনের ব্যবধানে নিজের অবস্থান থেকে ইউটার্ন নিয়ে হকারদের পক্ষে মাঠে নেমেছেন অঞ্জন দাস যা নিয়ে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গণ সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।

২০ এপ্রিল সকালে শহরের চাষাঢ়ায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জড়ো হন কয়েক শতাধিক হকার। পরে তারা বিবি রোডে মিছিল করে নগরভবনের সামনে সমাবেশ করেন। মিছিলের নেতৃত্বে অনেকের সঙ্গেই ছিলেন গণসংহতি আন্দোলনের অঞ্জন দাস ও বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন।

নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবু সাউদ মাসুদ বলেন, আমরা ফুটপাত হাটার জন্য চাই। অঞ্জন এবং ইকবাল এই দুই চাঁদাবাজকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানাই। হকারদের আজকের মিছিল দেখে আমি অবাক হয়েছি। অবাক হওয়ার পিছনের কারণ হচ্ছে যারা হকার উচ্ছেদের বিষয়ে একমত পোষণ করেছিলেন। তারা এখন হকারদের পুনর্বাসন এবং ফুটপাতে বসানোর জন্য রাস্তায় নেমেছে। এটা আবার কেমন রাজনীতি? আমি স্পষ্ট করেই বলতে চাই। অঞ্জন দাস নারায়ণগঞ্জ-৩ আসন থেকে এবার নির্বাচন করেছেন। তিনি ভোট পেয়েছেন ৬৩৮টি। অষ্টম হয়েছেন একই সঙ্গে জামানত হারিয়েছেন। যার নিজের এলাকায় তিনি প্রত্যাখাত হোন সে কিভাবে নারায়ণগঞ্জ শহরে এসে নেতৃত্বের স্থানে বসার চেষ্টা করেন। এটা কি আমরা মেনে নিবো? এটা কি শহরবাসী মেনে নিবে? কোনো অঞ্জন কিংবা নিরঞ্জন যে কেউ হোক তার বিপরীতে আমরা দাঁড়াবো। সিপিবির ইকবাল হোসেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে নির্বাচন করেছিলেন। তিনি ভোট পেয়েছেন ৪১৯টি। তার অবস্থান ছিল নবম। তাকেও দেখা গেলো হকারদের উস্কানির পিছনে মিছিল করতে। এ কেমন কথা। তারা দ্বিমুখী চরিত্র অবলম্বন করবে। চাঁদার ভাগ কি এখন তারা নিতে চাচ্ছেন। এ প্রশ্ন আমি নগরবাসীকে রেখে গেলাম এবং এদের প্রতিহত করতে সবাই এগিয়ে আসুন। কোনো অবস্থাতেই এদের চাঁদাবাজি করার সুযোগ দেওয়া যাবে না। হকার উচ্ছেদ হয়েছে এবং বলবৎ থাকবে।