News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ন্যায্য লড়াইয়ে ঐক্য, স্বার্থে বিভেদ


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: মে ১৮, ২০২৬, ১০:১৮ পিএম ন্যায্য লড়াইয়ে ঐক্য, স্বার্থে বিভেদ

নারায়ণগঞ্জে বাসভাড়া কমানোর দাবিতে এক মঞ্চে দেখা গেল তিন ছাত্র সংগঠনকে। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন ও জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রতিবাদে যৌথভাবে কর্মসূচিও পালন করছেন তারা। 

রোববার সকালে নারায়ণগঞ্জ কলেজের সামনে একই ব্যানারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে সংগঠন তিনটি। বাসের ভাড়া ৫০ টাকা থেকে ৫৫ টাকা বৃদ্ধি এবং হাফ পাশ ৩৫ টাকা করার প্রতিবাদে এই কর্মসূচীতে অংশ নেন তারা। এসময় নেতারা অবিলম্বে বাসভাড়া সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনার দাবি জানান। তাদের ভাষ্য, শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত ভাড়ার চাপ অমানবিক হয়ে উঠেছে। আর সেই কারনেই সাধারণ সকল শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় একজোট হয়ে নেমেছেন দাবি আদায়ের আন্দোলনে।

নারায়ণগঞ্জে বাসভাড়া নিয়ে আন্দোলন নতুন কিছু নয়। ৫ আগস্টের পরেও একই দাবিতে আন্দোলন করে দাবি বাস্তবায়ন করেছিলো একাধিক ছাত্র সংগঠন সহ নাগরিক সংগঠনগুলো। সেসময় বাসের ভাড়া কমাতে বাধ্য হয় বাস মালিকরা। এরপর সরকারি মূল্যের দোহাই দিয়ে ফের বাস ভাড়া বাড়ানো হলেও তীব্র সমালোচনার মুখে সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়। উভয় আন্দোলনেই ছিলো ছাত্র সংগঠনগুলোর ঐক্যবদ্ধ আচরণ।

তবে একই সময়ে জেলার সরকারি তোলারাম কলেজে নবীন বরণ অনুষ্ঠানকে ঘিরে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে ছাত্রদল ও ছাত্রশক্তি। অনুষ্ঠান পরিচালনা, অতিথি তালিকা ও আয়োজনে প্রাধান্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই সংগঠনের নেতাদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে তুলেছে। এতে সংঘাতের আশঙ্কাও দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় শিক্ষার্থীদের অনেকে বলছেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি আদায়ে তিন সংগঠনের ঐক্য ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। কিন্তু একই শহরে ব্যক্তিস্বার্থ ও আধিপত্যের প্রশ্নে সেই ঐক্য ভেঙে পড়ার শঙ্কাও তৈরি হয়েছে। যেখানে একে অপরের দিকে ছুড়ছেন বিষেদগার তৈরীর মন্তব্য। যা ধারাবাহিক ভাবে চলছে দিনের পর দিন। এমনকি হামলার আশংকাও করছেন এক ছাত্র সংগঠনের শীর্ষ নেতা। 

শিক্ষার্থীরা বলছেন, “বাসভাড়ার মতো জনস্বার্থের ইস্যুতে ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দল এক হতে পারছে, এটা ভালো দিক। কিন্তু নবীন বরণে কে সঞ্চালনা করবে বা কারা মঞ্চে থাকবে এসব বিষয় নিয়ে বিরোধ তৈরি হওয়া দুঃখজনক। নিজেদের মধ্যে সংলাপ করে অভ্যন্তরীন বিরোধ দূর করা প্রয়োজন। কোনভাবেই সংঘাত কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কাঁদা ছোড়াছুঁড়ি ভালো কিছু বহন করে না। 

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের প্রশ্নে যে ঐক্যের বার্তা দেখা গেছে, সেটি ধরে রাখতে না পারলে ভবিষ্যতে ছাত্ররাজনীতিতে আরও বিভাজন তৈরি হতে পারে। যা অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করবে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে। ফলে ক্ষুদ্র স্বার্থের জন্য বিরোধ থেকে দূরে সরে বৃহৎ স্বার্থের জন্য ঐক্যবদ্ধ থাকা খুবই জরুরী।