News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩

সোনারগাঁয়ে বিএনপি দুই গ্রুপের মারামারি আসামীদের গ্রেফতার দাবী


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬, ১০:০২ পিএম সোনারগাঁয়ে বিএনপি দুই গ্রুপের মারামারি আসামীদের গ্রেফতার দাবী

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে জামপুর ইউনিয়নের বস্তল এলাকায় পূর্ববিরোধের জের ধরে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারি বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, মারধর এবং স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারের উদ্যোগ এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

সংবাদ সম্মেলনে শাকিলা আমান তুলি দাবি করেন, গত ৪ সেপ্টেম্বর বিকাল আনুমানিক ৪টা ৪৫ মিনিটে রোকন, মাসুদ, মামুন আব্দুল্লাহ ও মো. আলীসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১২ থেকে ১৫ জন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাদের বসতবাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা বাড়িতে ঢুকে স্টিলের আলমারি, খাট, শোকেস, টেলিভিশন, ড্রেসিং টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র কুপিয়ে ও ভাঙচুর করে। এতে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

শাকিলা আমান তুলি বলেন, তিনি ও তার স্বামী হামলাকারীদের বাধা দিতে গেলে তাদের উপরও হামলা চালানো হয়। এ সময় তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার স্বামী হোসেন আলীকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথা, হাত ও পেটে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এতে হোসেন আলী গুরুতর আহত হন এবং মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তারা আহত হয়ে মাটিতে পড়ে গেলে তার কাছ থেকে প্রায় ১ ভরি ৮ আনা স্বর্ণালংকার, যার আনুমানিক মূল্য ৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা, নিয়ে যাওয়া হয়। এছাড়া বাড়ির দুটি স্টিলের আলমারির লকার ভেঙে প্রায় ৫ লাখ টাকা নগদ, স্বর্ণালংকার ও দুটি স্মার্টফোন নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। ঘটনার বিষয়ে বাড়াবাড়ি করলে তার স্বামী ও পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন শাকিলা আমান তুলি।

ঘটনার তিন দিন পর সোনারগাঁ থানায় মামলা করা হয়েছে। তবে সংবাদ সম্মেলনের সময় পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। আর তাই আসামীদের দ্রুতি গ্রেফতারের দাবী জানিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে হোসেন আলীর ছোট ভাই রবিন মিয়া অভিযোগ করেন, মসজিদ কমিটির মেয়াদ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সাবেক সেক্রেটারি চাঁদা দাবি করেন। এ সময় হোসেন আলী রোকন নামের এক ব্যক্তিকে থাপ্পড় মারেন বলে দাবি করে রবিন বলেন, এর জের ধরে রামদা, চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল ও রিভলভার নিয়ে তার ভাইয়ের ওপর হামলা চালানো হয়।

রবিন বলেন, “আমরা সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ চাই। আমার ভাইয়ের উপর যারা হামলা করেছে, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে।”

সংবাদ সম্মেলনে হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং হোসেন আলীর পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।