আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন। আর এবারের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই বেশ আলোচনায় জমজমাট হয়ে উঠেছে আদালত প্রাঙ্গন। বিশেষ করে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়েই বেশি আলাপ আলোচনা চলমান রয়েছে। আর সভাপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে বেশি আলোচনায় রয়েছেন অ্যাডভোকেট মো. জাকির হোসেন।
আদালপাড়ার সিনিয়র আইনজীবী হিসেবে তিনি প্রায় সকল আইনজীবীদের গ্রহণযোগ্যের তালিকায় রয়েছেন। নির্বাচনে দলমত নির্বিশেষ সকলেই তাকে সমর্থন দেয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
আদালতপাড়ায় সূত্র বলছে, ছাত্রজীবন থেকেই বিএনপির রাজনীতিতে পথচলা শুরু অ্যাডভোকেট মো. জাকির হোসেনের। তিনি জেলা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। নারায়ণগঞ্জ জেলা কৃষকদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন তিনি। একই সাথে কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ পদেও দায়িত্ব পালন করেছেন। নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। মহানগর বিএনপির বর্তমান কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন।
একই সাথে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। তৎকালিন সময়ে তার বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি করা হয়েছিলো। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের কিছুদিন আগেও অনেকদিন কারাবরণ করতে হয়েছে মো জাকির হোসেনকে। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দুইবার সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন করে জয়ী হয়েছেন।
এরপর ২০১৭ সালের নির্বাচনে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে জাকির হোসেন পাশ করলেও তাকে ক্ষমতার প্রভাব কাটিয়ে পরাজিত করা হয়েছিলো। তৎকালিন এমপি শামীম ওসমান নিজে উপস্থিত থেকে তাকে পরাজিত করেছিলেন। সে সময় অ্যাডভোকেট খোকন সাহা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছিলেন জাকির হোসেনকে। সেবারের নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনার ছিলেন একজন নারী। তাকেও অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেছিলেন খোকন সাহা।
পরবর্তীতে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর শামীম ওসমান আদালত থেকে বের হওয়ায় সময় সকলের সামনে বলেছিলেন; জাকির তুমি পাশ করেছো। কিন্তু কেন্দ্রের নির্দেশে তুমাকে ফেল করিয়েছি। তুমি পরবর্তীতে ভালো করবে। বিগত সময়ে এভাবেই অ্যাডভোকেট মো. জাকির হোসেনকে দমিয়ে রাখা হয়েছে। আর তাই এবারের বিএনপি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় সকল আইনজীবী চাচ্ছেন অ্যাডভোকেট জাকির হোসেনকে সভাপতি পদে আনতে।
জাকির হোসেন আগের নির্বাচনেও সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেবার তিনি সুযোগ পাননি। তাই এবারের নির্বাচনে চাচ্ছেন তিনি সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার জন্য। একই সাথে বিভিন্ন আইনজীবীদেরও সমর্থন রয়েছে তার প্রতি।
আইনজীবীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিগত সময়ে প্রতি বছরের জানুয়ারি মাসে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতো। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আইনজীবী সমিতির নেতৃত্বে থাকা আইনজীবীরা আদালত থেকে চলে যান। আর এই সময়ে আনইজীবী সমিতি নেতৃত্ব শূণ্য হয়ে যাওয়ায় নতুন একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে কিছুদিনের মধ্যেই নির্বাচন দেয়া হয়।
যারা ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ২৯ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সে হিসেবে এখন থেকে প্রতিবছরের আগস্ট মাসে আইনজীবী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু এই বিশেষ সাধারণ সভার মধ্য দিয়ে আবারও সেই নির্বাচন পিছিয়ে আবারও আগের মতো জানুয়ারিতে নির্বাচনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ফলে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির আগামী নির্বাচনও জানুয়ারীতেই অনুষ্ঠিত হবে।
তবে নির্বাচন জানুয়ারীতে হওয়ার কথা বললেও নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় এখন থেকেই নির্বাচনী আলাপ আলোচনা সরব হয়ে উঠেছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদেরকে বিভিন্নভাবে জানান দেয়ার চেষ্টা করে আসছেন।
এর আগে আইনজীবী সমিতির গত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তিনটি প্যানেল অংশ নিয়েছিলো। যার মধ্যে বিএনপি পন্থী আইনজীভীদের দুইটি প্যানেল এবং জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের একটি প্যানেল। আর এই তিন প্যানেলের লড়াইকে কেন্দ্র করে জমজমাট ছিলো নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়া। প্রচার-প্রচারণায় সরব ছিলো নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়া। আইনজীবীদের মধ্যে ছিলো উৎসবমুখর আমেজ।
তার আগে বিগত ১৬ বছরে নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় বিএনপির আইনজীবীরাও স্বস্তিতে থাকতে পারেননি। তাদেরকেও নানাভাবে নির্যাতন নিপীড়ন অপমান অপদস্থ হয়েছেন। পাশাপাশি জামায়াত সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের আইনজীবীরাও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির নেতৃত্ব থেকে বঞ্চিত থেকেছেন। আইনজীবীরা নিরাপদে ভোট দিতে পারেননি। নির্বাচনের সময় বহিরাগতরা আদালতপাড়ায় এসে শোডাউন দিয়েছেন। আইনজীবীদেরকে হেনেস্তা করেছেন।
এরই মধ্যে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। আর এই পতনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীরাও আত্মগোপনে চলে যান। তাদের এই আত্মগোপনে চলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন পর আইনজীবী সমিতির কর্তৃত্বে আসেন বিএনপির আইনজীবীরা।



































আপনার মতামত লিখুন :