News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩

আওয়ামী লীগ অফিসে বোমা হামলা : ৪ বার রায় পিছিয়ে ফের সাক্ষ্য গ্রহণ


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম আওয়ামী লীগ অফিসে বোমা হামলা : ৪ বার রায় পিছিয়ে ফের সাক্ষ্য গ্রহণ

নারায়ণগঞ্জের স্মরণকালের ইতিহাসের ভয়াবহ আওয়ামী লীগ অফিসে বোমা হামলা মামলার রায় ঘোষণার তিনটি তারিখ ধার্য্য করা হলেও নতুন করে সাক্ষ্য গ্রহণের আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। নিহতদের পরিবারের মধ্যে এত বছর পর বিচারের আলো দেখা গেলেও নতুন করে সাক্ষ্য গ্রহণের আদেশের কারণে আলোচিত এ মামলার রায় ফের পিছিয়ে যাচ্ছে।

২০০১ সালের ১৬ জুন নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় শামীম ওসমানের কার্যালয়ে বোমা হামলায় মারা যান ২০ জন। আহত হন অর্ধশতাধিক।

দীর্ঘ বছর মামলাটি নিয়ে রাজনীতিকরণের পর চব্বিশের অভ্যুত্থান শেষে মামলাটির গতি বাড়ে। মামলার শুনারীর ১০৩ তম দিনে ২০২৫ সালের ২০ এপ্রিল সাক্ষ্য গ্রহণ সমাপ্ত করে ২৯ এপ্রিল ৩৪২ ধারায় পরীক্ষার দিন ধার্য করা হয়। সেদিন পরীক্ষা শেষে আদালত ৭ মে যুক্তিতর্কের দিন ধার্য করেন। ১০৫ তম শুনানীর দিন উভয় পক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য গ্রহণ করে আদালত ১ জুন রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। ১ জুন আদালত রায় ঘোষণা না করে ৪ আগস্ট ফের রায় ঘোষণার তারিখ দেন। কিন্তু সেদিনও আদালত রায় ঘোষণা করেনি। নতুন করে রায় ঘোষণার ধার্য তারিখ দেন ২৭ অক্টোবর। সকলের নজর দিল ২৭ অক্টোবর আদালতের দিকে। তবে ঘটে নতুন এক ঘটনা। রাষ্ট্রপক্ষ নতুন করে সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আদালতে আবেদন করেন।

বোমা হামলার পর দিন মহানগর আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা বাদি হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় দুইটি মামলায় (একটি বিস্ফোরক অন্যটি হত্যা) জেলা বিএনপির তৎকালীন সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারকে প্রধান করে বিএনপি ও এর অঙ্গ দলের মোট ২৭ জনকে আসামী করা হয়। মামলার আসামীরা হলেন জেলা বিএনপি নেতা আনিসুল ইসলাম সানি, মুক্তিযোদ্ধা কামাল হোসেন, নুরুল ইসলাম সরদার, সুরুজ্জামান, ইকবাল আহমেদ শ্যামল, অকিলউদ্দিন ভূইয়া, মমতাজ উদ্দিন মন্তু, মনিরুল ইসলাম রবি, ক্যাপ্টেন দুলাল, তুষার আহমেদ মিঠু, কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকু, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হাসান রোজেল, সহ সভাপতি রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী, বদিউজ্জামান, জাহাঙ্গীর আলম, সামসুল ইসলাম মিঠু প্রমুখ।

মামলার আসামী কামালউদ্দিন মৃধা, সুরুজ্জামান, মুক্তিযোদ্ধা কামাল হোসেন, মমিনউল্লাহ ডেভিড ও তার ভাই ওবায়েদউল্ল­াহ মনা, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলম মারা গেছেন।

২০১৩ সালে এদের সকলকে বাদ দিয়ে ৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশীট দেয় সিআইডি। তিনি হলেন সিটি করপোরেশনের ১২নং ওয়ার্ডের তিনবারের কাউন্সিলর ও বিলুপ্ত পৌরসভার কমিশনার শওকত হাশেম শকু। জেলা বিএনপির সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক ও মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক শকু কি কারণে ওই মামলায় অভিযুক্ত সেটা নিয়ে তিনি নিজেও সন্দিহান। কারণ মামলার বাদী অ্যাডভোকেট খোকন সাহা ২০১৫ সালের ৬ নভেম্বর আদালতে হলফনামা দিয়ে স্বীকার করেছিলেন ঘটনার সঙ্গে শকু জড়িত না। এছাড়া ২০২০ সালের ৭ সেপ্টেম্বর আদালতে সাক্ষ্য প্রদানের সময়ে শামীম ওসমান দাবী করেছিলেন বোমা হামলায় শওকত হাশেম শকু ‘জড়িত মনে করেন না’।

চার্জশীটে শকুর পরিচয় হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলার আসামী মেজর বজলুর হুদার শ্যালক খালাসপ্রাপ্ত আসামী ক্যাপ্টেন কিসমত হাশেমের ছোট ভাই উল্লেখ করা হয়। এরই মধ্যে ক্যাপ্টেন কিসমত হাশেম মারা গেছেন। তিনি মুজিব হত্যা মামলার খালাসপ্রাপ্ত আসামী ছিলেন।

২০০০ সালের ১৪ ডিসেম্বর শেখ মুজিবুর হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হয় সেদিন আওয়ামী লীগের কিছু উশৃঙ্খল লোকজন ডনচেম্বার এলাকাতে শকুর বাড়িতে হানা দেয়। শকুর বৃদ্ধ মা ও বাবাকে ঘর থেকে টেনে বের করে নিচে সব আসবাবপত্র বের করে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। ঘরে নারীদের উপর চলে নির্যাতন যেটা কেউ বলে না। সেলে নিয়ে ১০ দিন চোখ বেঁধে নির্যাতনের পর চোখ নষ্টের উপক্রম ছিল।

চার্জশীটভুক্তদের মধ্যে ২০০৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারী ভারতের রাজধানীর দিল্লীর একটি রেল ষ্টেশন হতে হরকাতুল জিহাদের দুই জঙ্গি সহোদর আনিসুল মোরসালিন ও মুহিবুল মুত্তাকিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা বোমা হামলার ঘটনা স্বীকার করেছেন। বর্তমানে দিল্লী কারাগারে বন্দী রয়েছে।

আরেক আসামী শাহাদাত উল্লাহ জুয়েল অপর এক মামলায় কারাবন্দী। তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছেন অনেক আগেই।

মুফতি হান্নানের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে আরো একটি মামলায়।

মামলার তদন্ত প্রতিবেদন মতে ওবায়দুল হক নিজেই মোরসালিন ও মোত্তাকিমকে নিয়ে চাষাঢ়া আওয়ামী লীগ অফিসে বোমা হামলার কিছুক্ষণ আগে প্রবেশ করেন। ওবায়দুল নিজেই শামীম ওসমানের সামনে গিয়ে টেবিল চাপড়ায়। তাদের হাতে ছিল কালো ব্রিফকেস। এর কিছুক্ষণ পরেই বোমাটি বিস্ফোরণ ঘটে। ওবায়দুল হকের বাড়ি নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া ও মিশনপাড়ার সংযোগস্থল চকলেট ফ্যাক্টরী মোড়ে। ২০২০ সালের ১২ মার্চ মারা গেছেন।

এ ব্যাপারে শওকত হাশেম শকু জানান, ৬ জনের মধ্যে দুইজন ভারতে, একজনের মৃত্যুদ- কার্যকর হয়েছে, প্রধান আসামী মারা গেছে, আরেকজন কারাগারে ও শেষের জন আমি। কিন্তু কি কারণে মামলাটি এত বছর ধরে বিচারহীনতার মধ্যে আছে সেটা আমার বোধগম্য না। আমি আদালতের কাছে ন্যায়বিচার চাই। মামলার পেছানোর কারণও বেরা করা উচিত।

নারায়ণগঞ্জ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট খন্দকার আজিজুল হক হান্টু বলেন, বিচারক ইচ্ছা করলে স্বাক্ষী গ্রহণ করতে পারে। রায় ঘোষণার আগে এমনও যদি হয় রায় লিখছে; আদেশ দিয়ে দিবে; তখনও প্রায়োজন পড়লে বিচারক আবার নতুন করে স্বাকী নিতে পারেন। এতে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। পর্যাপ্ত স্বাক্ষী না হওয়া পর্যন্ত বিচারক স্বাক্ষীর জন্য অপেক্ষা করতে পারেন।