দেশের অর্থনীতির লাইফলাইন খ্যাত ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কে চালু হয়েছে 'অটো ফাইন সিস্টেম' হিসেবে পরিচিত স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিনির্ভর এআই মামলা সিস্টেম। মহাসড়কে ওভারস্পিড, অবৈধ পার্কিং কিংবা উল্টোপথে গাড়ি চলাচলের মতো আইন লঙ্ঘন স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করছে এআই ক্যামেরা।
উদ্ধোধনের প্রথম দিনেই মামলা ৪ শত ছাড়িয়েছে। এতে সড়ক দুর্ঘটনা কমে আসায় স্বস্তি দেখা দিয়েছে চালক ও যাত্রীদের মধ্যে। তবে মহাসড়কে চলাচল নিষিদ্ধ থ্রি হুইলারের দৌরাত্ম্য এখনো বন্ধ হয়নি।
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেইট পর্যন্ত ২৫০ কিলোমিটার ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কে ট্রাফিক শৃঙ্খলা জোরদার এবং ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত, কার্যকর, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিনির্ভর 'অটো ফাইন সিস্টেম' চালু করা হয়েছে। মহাসড়কের উভয়পাশে ৪৯০টি পোলে স্থাপিত ১৪২৭টি বুলেট ক্যামেরা, পিটিজি ড্রোন ক্যামেরা, লং ভিশন ক্যামেরার মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করা হচ্ছে। অতিরিক্ত গতি, নির্ধারিত লেন না মানা, বিপজ্জনক ওভারটেকিং, উল্টো পথে চলাচল ও অবৈধ পার্কিংসহ বিভিন্ন ধরনের ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্ত হলে সঙ্গে সঙ্গে ডিজিটাল মামলা দেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট গাড়ির মালিকের মোবাইল নম্বরে পাঠানো হচ্ছে মামলা সংক্রান্ত বার্তা। মঙ্গলবার উদ্ধোধনের পর থেকে রাত ১২ টা পর্যন্ত ৪২৮ টি মামলা হয়েছে। যার মধ্যে ৩৯৯টি ওভারস্পীডে ও ২৯টি মামলা উল্টোপথে চলার কারণে। এতে বুধবার মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহনে শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে। সকাল ১১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত মাত্র ১৫টি মামলা হয়েছে। এআই ক্যামেরার কারণে দুর্ঘটনার হারও কমেছে। তবে মহাসড়কে চলাচল নিষিদ্ধ থ্রি হুইলারের উল্টোপথে চলাচল বন্ধ হয়নি।
চালক ও যাত্রীরা বলছেন, এআই ক্যামেরার কারণে তারা সুফল পাচ্ছেন। ওভারস্পীড, বিপজ্জনক ওভারটেকিং, অবৈধ পার্কিং ও উল্টোপথে চলাচল কমে গেছে। এতে করে দুর্ঘটনাও অনেক কমবে। এআই ক্যামেরা ডাকাতি ছিনতাই চাঁদাবাজির মতো অপরাধ প্রবনতাও কমবে বলে তারা মনে করেন।
উল্টোপথে আসা থ্রি হুইলার ও মোটরসাইকেল চালকরা বলছেন, উল্টোপথে আসা ঠিক নয় দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে সেটা তারাও জানেন। তবে সার্ভিস লেন না থাকাসহ অনেক দূর দিয়ে ঘুরে আসতে হয় বিধায় তারা উল্টো পথে আসেন।
কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শামীম জানান, এআই ক্যামেরা স্থাপনের কারণে সাধারণ মানুষ অনেক সুফল ভোগ করছেন। তারা অনেক আনন্দিত। মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত ৪২৮টি মামলা হয়েছে। দুর্ঘটনার সংখ্যা কমেছে। ডাকাতি ছিনতাইসহ নানা অপরাধ কমে আসবে। মহাসড়কে থ্রি হুইলার চলাচল নিষিদ্ধ। এগুলো মহাসড়ক উঠলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
গত মঙ্গলবার উদ্ভোধনকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, থ্রি হুইলার গুলো বাজার এবং ফিলিং স্টেশন ও পিডার রোডে চলাচল করবে। তারা কোনো অবস্থাতেই মহাসড়কে উঠতে পারবে না উঠলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মহাসড়কে ট্রাফিক আইন ভাঙলেই এবার আর চোখ এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
ক্যামেরার নজরদারিতে থাকবে যানবাহন। আর আইন লঙ্ঘন শনাক্ত হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হবে মামলা।





































আপনার মতামত লিখুন :