২০১৪ সালে নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী ছিলেন মহানগর বিএনপির আহবায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। তিনি ঐ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর নিহতদের পক্ষে প্রায় আড়াই বছর বেশি সময় ধরে আইনি লড়াইয়ে নেতৃত্ব দেন এবং সাত খুনের রায় দ্রুত কার্যকরের দাবিতে সোচ্চার ছিলেন। ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জের একটি আদালত সাত খুনের মামলায় সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা নূর হোসেন, তারেক সাইদ, আরিফ হোসেন এবং মাসুদ রানা, সাবেক র্যাব কর্মকর্তা সহ মোট ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। রায়ে নূর হোসেনের নয়জন সহযোগী এবং সাবেক র্যাব সদস্যদেরও বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। যার পুরো অবদানে ছিলেন বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান।
সাত খুনের হত্যা মামলায় কাঙ্খিত রায়ের আগে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপি মনোনয়ন পেয়ে অংশগ্রহণ করেন। পরবর্তিতে মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি হন এবং ২০২৩ সালে আহবায়ক হয়ে বর্তমানে নাসিকের প্রশাসক দায়িত্ব পান বিএনপি দলের পক্ষ থেকে। তিনি প্রশাসক হয়ে শহরের দীর্ঘ দিনের অভিশাপ হকার ও যানজটমুক্ত করতে ইতোমধ্যে তৎপর হতে দেখা গেছে। একই সাথে শহরের দীর্ঘদিনের বজ্য অব্যবস্থাপনা পরিধি পরিবর্তন করে এলাকার ময়লা আবর্জনা উত্তোলন করে ফেলে দিচ্ছেন নবাগত প্রশাসক।
স্থানীয় এমপি আবুল কালামকে নিয়ে ইতোমধ্যে শহরকে পরিকল্পিত নগরী গড়ে তুলতে কাজ করছেন নাসিকের প্রশাসক। তিনি বলেছেন, আওয়ামীলীগের সরকার আমলেই আলোচিত সাত খুন হত্যা মামলা নিয়ে পিছু হটেনি। এবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেয়া দায়িত্ব নিয়ে পিছু হাটবো না। আমি ভেঙ্গে যেতে পারি কিন্তু মচকাবো না। তাই নগরবাসী শান্তি ফিরে দিতে নাসিক সকল পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে বদ্ধ পরিকর। কোন গান্ধী পোকা বা নগর বিরোধীদের অপতৎপরতায় পরিকল্পনা নষ্ট হতে দিবো না।
জানা গেছে, ২০১৪ সালের ২৯ এপ্রিল সাত খুনের ঘটনা আলোচিত করতে বিএনপির আইনজীবী হয়ে পুরো আদালতপাড়া সরগরম করে রেখেছিলেন সাখাওয়াত হোসেন খান। একাধিক হুমকি ধমকি মধ্যেই তিনি সাত খুন হত্যা মামলার বাদীর আইনজীবী হয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে ছিলেন। সাধারণ জনগণ ও নিহত স্বজনদের আস্থার প্রতীক হয়ে আলোচিত ছিলেন সাখাওয়াত হোসেন খান।
তার এমন সাহসীতায় ২০১৬ সালের নাসিকের নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করে বিএনপি। পরাজিত হলেও সক্রিয় রাজনীতিতে আলোচনা সাপেক্ষে ২০১৯ সালে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি হন সাখাওয়াত। আওয়ামী সরকার বিরোধী আন্দোলন সংগ্রামের সক্রিয় ভূমিকা কারণে তাকেই ২০২২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর মহানগর বিএনপি আহবায়ক হন তিনি। এখন পর্যন্ত সেই বহাল কমিটির থাকা অবস্থায় বিএনপি সরকার গঠনের এক সপ্তাহে ব্যবধানে নাসিকের প্রশাসক দায়িত্ব পান। দেড়শ বছরের ঐহিত্যবাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রধান দায়িত্বে হন বিএনপি কোন নেতা।
আগামী এক সপ্তাহে মধ্যে শহরের দৃশ্যপর্ট পরিবর্তন করা হবে আশ্বাস দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপি আহবায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান। তিনি বলেন, হকার মুক্ত নগর গড়তে ফুটপাতে কোন খাট বা বাক্স রেখে হকারী করতে দেয়া হবে না। অবৈধ অটোরিক্সা রোধে সঠিক নিয়মে প্লেটের নবায়ন করা হবে। হকাররা বড় বড় জিনিসপত্র নিয়ে বসা কোন সুযোগ নেই। নারায়ণগঞ্জবাসী ও সুশীল সমাজের সহযোগিতায় এমপি আবুল কালাম।





































আপনার মতামত লিখুন :