News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩

গণশত্রু চাঁদাবাজের পক্ষে গণসংহতি !


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত: এপ্রিল ২২, ২০২৬, ০৯:২১ পিএম গণশত্রু চাঁদাবাজের পক্ষে গণসংহতি !

২২ এপ্রিল (বুধবার) ২০২৬ গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলেন, আমরা নিরাপদ, বাসযোগ্য, চাঁদাবাজি ও যানজটমুক্ত নারায়ণগঞ্জ প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারবদ্ধ।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নারায়ণগঞ্জে হকার উচ্ছেদ ইস্যুতে এক উদ্ভুত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। চলমান এই ইস্যুতে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাহী সমন্বয়কারী অঞ্জন দাস এর হকারদের মিছিলে অংশগ্রহণ সাংগঠনিক শৃংখলার পরিপন্থী। তিনি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হওয়ায় এ বিষয়ে যথোপযুক্ত সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় কমিটি গ্রহণ করবে। তবে তার এই অংশগ্রহণকে যেভাবে চাঁদাবাজির সাথে যুক্ত করে চিত্রিত করা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য ও অনভিপ্রেত। 

অঞ্জন দাস বহুদিন ধরে দলের চর্চিত নীতি পুনর্বাসনের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়া হকার উচ্ছেদের বিপক্ষে দলের কেন্দ্রীয় নীতিকেই অনুসরণ করেছেন। আমরা অতীতেও দেখেছি হকারদের জীবন জীবিকার বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া হকার উচ্ছেদ হয় সাময়িক ব্যবস্থা এবং তা চাঁদাবাজির হাতবদল ও বর্ধিত চাঁদাবাজির নতুন সুযোগ তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয়। আমরা আবারও সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই আমাদের লক্ষ্য হকারদের ব্যবহার করে চাঁদাবাজির যে ব্যবস্থা তার উচ্ছেদ। সকল নাগরিকের জন্য নিরাপত্তা, জীবন ও জীবিকার ব্যবস্থা। জনগণের একাংশের বিরুদ্ধে আরেক অংশকে ব্যবহার করে স্বার্থান্বেষী মহলের স্বার্থ হাসিলের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান অব্যাহত থাকবে। নারায়ণগঞ্জ এর জনগণের পক্ষে তার সমস্যা সমাধানে গণসংহতি  আন্দোলন অতীতেও যেভাবে জান বাজি রেখে দাঁড়িয়েছে, লড়াই করেছে, আগামী দিনেও সেই সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।

এর আগে ফুটপাতে হকার বসতে চাওয়ার দাবিতে শহরে মিছিল করার প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবু সাউদ মাসুদ বলেন, আমরা ফুটপাত হাটার জন্য চাই। অঞ্জন এবং ইকবাল এই দুই চাঁদাবাজকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানাই। হকারদের আজকের মিছিল দেখে আমি অবাক হয়েছি। অবাক হওয়ার পিছনের কারণ হচ্ছে যারা হকার উচ্ছেদের বিষয়ে একমত পোষণ করেছিলেন। তারা এখন হকারদের পুনর্বাসন এবং ফুটপাতে বসানোর জন্য রাস্তায় নেমেছে। এটা আবার কেমন রাজনীতি?

তিনি বলেন, আমি স্পষ্ট করেই বলতে চাই। অঞ্জন দাস নারায়ণগঞ্জ-৩ আসন থেকে এবার নির্বাচন করেছেন। তিনি ভোট পেয়েছেন ৬৩৮টি। অষ্টম হয়েছেন একই সঙ্গে জামানত হারিয়েছেন। যার নিজের এলাকায় তিনি প্রত্যাখাত হোন সে কিভাবে নারায়ণগঞ্জ শহরে এসে নেতৃত্বের স্থানে বসার চেষ্টা করেন। এটা কি আমরা মেনে নিবো? এটা কি শহরবাসী মেনে নিবে? কোনো অঞ্জন কিংবা নিরঞ্জন যে কেউ হোক তার বিপরীতে আমরা দাঁড়াবো। সিপিবির ইকবাল হোসেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে নির্বাচন করেছিলেন। তিনি ভোট পেয়েছেন ৪১৯টি। তার অবস্থান ছিল নবম। তাকেও দেখা গেলো হকারদের উস্কানির পিছনে মিছিল করতে। এ কেমন কথা। তারা দ্বিমুখী চরিত্র অবলম্বন করবে। চাঁদার ভাগ কি এখন তারা নিতে চাচ্ছেন। এ প্রশ্ন আমি নগরবাসীকে রেখে গেলাম এবং এদের প্রতিহত করতে সবাই এগিয়ে আসুন। কোনো অবস্থাতেই এদের চাঁদাবাজি করার সুযোগ দেওয়া যাবে না। হকার উচ্ছেদ হয়েছে এবং বলবৎ থাকবে। এটার পিছনে আমরাও থাকবো। আমরা শান্তিপূর্ণ একটি শহর চাই। বর্তমান সরকারও চাচ্ছেন হকারমুক্ত ফুটপাত। আমরা এর সমর্থন জানাচ্ছি। উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যারা জড়িত রয়েছেন তাদের সঙ্গে আমরা রয়েছি। প্রয়োজনে আমাদের ডাকবেন। আমরাও আপনাদের ডাকে সাড়া দিবো। মিডিয়া থেকে পূর্ণ সমর্থন পাবেন। হকার যাতে আর বসতে না পারে এবং এই অঞ্জন ও ইকবালের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।