News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

হিন্দু সমাজের পাশে থাকবে বিএনপি


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: জুলাই ১৮, ২০২৬, ০৮:৩২ পিএম হিন্দু সমাজের পাশে থাকবে বিএনপি

নারায়ণগঞ্জে হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি নেতারা। তারা বলেছেন, হিন্দু ধর্মের লোকজন সব সময়ে বিএনপির সময়ে নিরাপদ থাকে।

বৃহস্পতিবার ১৬ জুলাই দুপুর ৩টায় শহরের বরফকল মাঠে আন্তর্জাতিক কৃঞ্চভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) এর শ্রীশ্রী নিতাই চৈতন্য মন্দিরের আয়োজনে শ্রীশ্রী জগন্নাথ, বলদেব ও সুভদ্রা মহারানীর রথযাত্রা মহোৎসব অনুষ্ঠানে উপস্থিতিরা এসব কথা বলেন।

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম বলেছেন, রথ হল একটি বাহন যেটা চাকার মাধ্যমে চলমান থাকে। শ্রী কৃষ্ণের রথযাত্রার আজ সূচনা। গত সতেরো বছরে যে অবস্থায় দেশ ছিল সেটা থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে আপনারা ভোট দিয়ে আজ তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমাদের সরকারকে নির্বাচিত করেছেন। আমরা সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করি। আমাদের নেতা তারেক রহমান বিশ্বাস করেন এ দেশটিতে সম্প্রীতি বজায় থাকবে। আমি প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করবো আপনাদের সহযোগীতা এই অনুষ্ঠান সফল হওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রনী ভূমিকা পালন করবে। আপনারা সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন। আমরা রাজনীতি করি জনকল্যাণের জন্য। আমরা নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করবো। নেতাকর্মীদের বলবো সরকার আপনার। ভালো খারাপ সব আমাদের দায় নিতে হবে। আপনারাও সচেতন থাকবেন।

মহানগর বিএনপির আহবায়ক ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, আমরা নিরাপত্তা দিতে আসিনি। কারণ বাংলাদেশের সকল মানুষই নিরাপদ। আমরা এসেছি আপনাদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে। আপনাদের ভোটে নির্বাচিত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাদের চিঠি দিয়ে বলেছেন আমরা যেন আপনাদের সাথে থেকে এ অনুষ্ঠানকে আনন্দপূর্ণ করে তুলি। আমরা চাই আপনাদের সকল অনুষ্ঠান, ব্যবসা আপনারা নির্বিঘেœ করবেন।

মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেন, রথযাত্রা উপলক্ষে আমরা আটটি ওয়ার্ড ও দুটি ইউনিয়নে স্বেচ্ছাসেবক দিয়েছি। আমাদের নেতাকর্মীরা আপনাদের নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত থাকবে। আমরা যেকোন অনুষ্ঠানে যাই না কেন প্রোটোকল মেনে আমাদের বক্তব্য দিতে হয়। যার যা সম্মান আমাদের তা দিতে হয়। গত সতেরো বছর ফ্যাসিস্টরা বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক দেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে চিহ্নিত করতে চেষ্টা করেছে। কিন্তু যতবারই তারা চেষ্টা করেছে, তারা ব্যর্থ হয়েছে। কারণ স্বাধীনতার ঘোষক ঘোষণা দিয়েছিলেন একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য। তারেক রহমান দেশকে অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বে পরিচিত করতে চান। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে প্রমাণ করে দিয়েছেন আপনারা কোন দলের না। আপনারা কালাম সাহেবকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে নিয়ে এসেছেন। আপনাদের উৎসবে বিঘœ ঘটাতে হলে আমাদের বুকের ওপর পাড়া দিয়ে যেতে হবে।

জেলা গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়কারী তরিকুল ইসলাম সুজন বলেন, আমাদের এ দেশটা সকলের। এ দেশ শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠদের নয়। দেশটা হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সকলের। সকলেই দেশের নাগরিক। নাগরিকদের মধ্যে কোন ভেদাভেদ হয় না। নাগরিকদের জন্য ধর্ম হয় না। আপনারা সকলে দেশের নাগরিক। রাষ্ট্র আপনাদের নিরাপত্তা দিতে বাধ্য। আপনাদের উৎসব নির্বিঘেœ ও আনন্দে হবে। কারও উৎসব আনন্দে হবে কারও উৎসব হবে না এমন বাংলাদেশের জন্য আমরা জীবন বাজি রেখে লড়াই করিনি। আমরা সকলে ওয়াদাবদ্ধ আপনাদের নাগরিক ও ধর্মীয় অধিকার আপনারা অবশ্যই পাবেন। আপনারা আপনাদের প্রাপ্য সবকিছুই পাবেন।