News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

নারায়ণঞ্জের সার্বিক উন্নয়নেই দিপু ভূইয়ার পথচলা


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: জুলাই ১৮, ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম নারায়ণঞ্জের সার্বিক উন্নয়নেই দিপু ভূইয়ার পথচলা

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি হওয়ার পর থেকেই মুস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু একাগ্রচিত্তে কাজ করে যাচ্ছেন। নারায়ণগঞ্জের সার্বিক উন্নয়নে তার একের পর এক পদক্ষেপ বেশ সফলতা এনে দিয়েছে। সেই সাথে তিনি দায়িত্ব পেয়েই নারায়ণগঞ্জবাসীর কল্যাণে একাগ্রচিত্তে কাজ করে যাচ্ছেন।

এরই মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে মুস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। আর এই পদটি তার জন্য আরও বেশি সফলতার সুযোগ করে দিয়েছে। ফলে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড দিয়ে তিনি যে দপ্তরেই যাচ্ছেন সেই দপ্তরেই তার আহ্বানে সাড়া দিচ্ছে। ফলে একের পর এক কাজের মধ্যে দিয়ে তিনি নারায়ণগঞ্জবাসীর কল্যাণে অবদান রেখে যাচ্ছেন।

জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের এমপি মুস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপুর আবেদনের প্রেক্ষিতে শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়ায় অবস্থিত শহীদ জিয়া হল মিলনায়তন পুন:নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। গত ১০ জুন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রেরিত পজ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবকে এই নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। একই সাথে গৃহীত কার্যক্রমে অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রেরণের কথা বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে মুস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু বলেন, ‘জিয়া হল নারায়ণগঞ্জ জেলার মধ্যে একমাত্র স্থাপনা যেটা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতি বহন করছে। সুতরাং দ্রুত সময়ের মধ্যে এ হলের সংস্কার প্রয়োজন অনুধাবন করেই আমি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছিলাম। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়ায় অবস্থিত শহীদ জিয়া হল মিলনায়তনটি পরিত্যক্তবস্থায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। অথচ স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস, জাতীয়তাবাদী আদর্শ ও সাংস্কৃতিক জাগরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মারক এ জিয়া হল। আর তার এই জিয়া হলকে পুনরায় নির্মাণ করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আবেদন করেছিলেন নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের এমপি মুস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদনের পরেই বিষয়টি নিয়ে বিষয়টির গুরুত্ব বেড়ে যায়। সেই সাথে ২৫ এপ্রিল জিয়া হল প্রাঙ্গণে পাট পণ্যজাত মেলায় এসে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বিষয়টি তুলে ধরে বলেছিলেন, ‘ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের এমপি দিপু ভূইয়া এ জিয়া হলের পুনঃনির্মাণের জন্য ডিও লেটার (চাহিদা পত্র) দিয়েছেন। স্থানীয় এমপি আবুল কালাম ভাইকেও বলবো আপনিও একটি ডিও লেটার দেন। আমরা আশা করি দ্রুত এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

এর আগে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি হিসেবে অধিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই মুস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের দাবী জানিয়ে আসছিলেন।

নারায়ণগঞ্জ অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ ও গুরুত্বপূর্ণ একটি জেলা হলেও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) তদারকির কারণে পরিকল্পিত শহর হিসেবে গড়ে উঠেনি এমন অভিযোগ ছিল দীর্ঘদিনের। বিষয়টি অনুধাবন করে গত এক বছর ধরেই নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু বিভিন্ন সময়ে নারায়ণগঞ্জে পৃথক উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের দাবি করে আসছিলেন।

সেই সাথে গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর দিপুর নেতৃত্বে ব্যবসায়ীদের একটি দল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ড. আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে নারায়ণগঞ্জকে আলাদা একটি কর্তৃপক্ষ গঠনের তাগিদ দেন। এছাড়া জেলা প্রশাসকের সঙ্গেও একাধিক বৈঠকে এ বিষয়টি নজরে আনেন দিপু ভূঁইয়াসহ ব্যবসায়ীরা।

সবশেষ গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর প্রায় ১ হাজার ব্যবসায়ীর উপস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জ চেম্বারের বার্ষিক সাধারণ সভাতেও নারায়ণগঞ্জে আলাদা কর্তৃপক্ষ গঠনের জোরালো দাবি জানানো হয়। সেদিনও উপস্থিত ব্যবসায়ীরা এটাকে সমর্থন দেন।

নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগে চিঠি দিয়েছিলেন তৎকালিন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) প্রশাসক ড. আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। তারই প্রেক্ষিতে চলতি কছরের গত ৮ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করতে একটি খসড়া অধ্যাদেশ করেছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। সেই সাথে নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তপক্ষের চেয়ারম্যান পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব।

এদিকে নারায়ণগঞ্জবাসীর দীর্ঘ দিনের দাবী হচ্ছে নারায়ণগঞ্জকে এ ক্যাটাগরির জেলা হিসেবে রূপান্তর করা। এ বিষয়ে গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর প্রায় ১ হাজার ব্যবসায়ীর উপস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জ চেম্বারের বার্ষিক সাধারণ সভাতে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু বলেছিলেন, নারায়ণগঞ্জ থেকে দেশের মোট জিডিপির প্রায় ৮ শতাংশ আসে। অথচ অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য এখনো নারায়ণগঞ্জকে ‘বি’ ক্যাটাগরির জেলা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নারায়ণগঞ্জ ‘এ’ ক্যাটাগরির জেলা হওয়ার যোগ্যতা রাখে, এই জেলাকে এ ক্যাটাগরিতে দেখতে চাই। এ জন্য নারায়ণগঞ্জের সব মানুষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

সবশেষ নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকাকে মেট্রোপলিটন জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ডিও লেটার দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের এমপি মুস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু। চিঠির একটি অংশে তিনি লিখেন, বাংলাদেশের শিল্পায়ন, রপ্তানি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং জাতীয় অর্থনীতিতে নারায়ণগঞ্জ জেলার অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক । প্রাচ্যেরডান্ডি খ্যাত নারায়ণগঞ্জ যুগ যুগ ধরে দেশের শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে আসছে। দেশের গার্মেন্টস নীটওয়্যার, হোসিয়ারী, টেক্সটাইল, ডাইং, প্লাস্টিক, কেমিক্যাল, সিমেন্ট, স্টিল ও জাহাজ নির্মাণসহ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পখাতের একটি বড় অংশ নারায়ণগঞ্জকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। এখানে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল, অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং বিভিন্ন শিল্প পার্কও রয়েছে। প্রতিদিন এখানে হাজার হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক লেনদেন হচ্ছে যা এ অঞ্চলকে দেশের অন্যতম ব্যস্ত অর্থনৈতিক করিডোরে পরিনত করেছে।

নারায়ণগঞ্জ মেট্টোপলিটন পুলিশ গঠন করা হলে শিল্প ও বিনিয়োগ নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে, অপরাধ দমন ও গোয়েন্দা কার্যক্রম অধিক কার্যকর হবে, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা শৃঙ্খলা ও গতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে এবং জরুরী নাগরিকসেবা দ্রুত ও সমন্বিতভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ আরও সুদৃঢ় হবে। পাশাপাশি স্মার্ট ও পরিকল্পিত শিল্পনগরী হিসেবে নারায়ণগঞ্জের সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে প্রত্যাশা করা যায়।

অতএব নারায়ণগঞ্জ জেলার সার্বিক উন্নয়ন, শিল্প নিরাপত্তা, বিনিয়োগ সুরক্ষা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে নারায়ণগঞ্জ বাশীর পক্ষ থেকে "নারায়ণগঞ্জ মেট্টোপলিটন পুলিশ" গঠনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি। আর এভাবেই একের পর এক কাজের মধ্য দিয়ে তিনি নারায়ণগঞ্জবাসীর কল্যাণে নিজেকে নিবেদিত করে যাচ্ছেন।