নারায়ণগঞ্জে স্থাপিত বাংলাদেশের প্রথম জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় নিন্দার ঝড় উঠেছে সর্বত্র। বহুদিন ধরেই এই স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের পরিকল্পনা করে আসছিলো কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ। প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ এবং বাড়তি নিরাপত্তার বিষয়ে অবগত করার পরেও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
মঙ্গলবারের ভোরে ফতুল্লার হাজীগঞ্জ এলাকায় জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগ করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে কাপড়ে আগুন ধরিয়ে তা স্মৃতিস্তম্ভে নিক্ষেপ করা হয়। দূরেই দাঁড়িয়ে সেই অগ্নিসংযোগের ভিডিও ধারন করছিলো তাদেরই একজন। সেটা একটি অনলাইন পোর্টালে দুপুরে আপলোড হয়।
যেখানে দেখা যায় অগ্নিসংযোগের পর পুলিশ এসে তা দ্রুত সরিয়ে দিচ্ছে এবং নিভিয়ে ফেলছে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী ও ফতুল্লা থানার ওসি এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
সূত্র বলছে, জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে ৫ জন উপদেষ্টা এসে উদ্বোধন করেন। এটি বাংলাদেশের প্রথম স্মৃতিস্তম্ভ যা জুলাই শহীদদের স্বরণে নির্মাণ করা হয়েছে। এই স্মৃতিস্তম্ভের নিরাপত্তার জন্য এখানে পুলিশ প্রহরার ব্যবস্থা করা হয়। পুলিশ সদস্যদের সুবিধার জন্য স্থায়ী ক্যাম্প বসানো হয়েছে। সার্বক্ষনিক এখানে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য নিরাপত্তার বিষয়টি দেখভাল করেন।
তবে দেশের বিভিন্ন স্থানে জুলাই শহিদ স্মৃতিস্তম্ভে হামলার পর নারায়ণগঞ্জেও হামলা বা অগ্নিসংযোগ করা হতে পারে এমন তথ্য আসছিলো গোয়েন্দা মারফত। বিশেষত ওসমান পরিবারের পালিত সন্ত্রাসীরা রাতের আধারে এখানে অগ্নিসংযোগ করতে পারে এমন তথ্য ছিলো বেশ আগে থেকে। এরই মধ্যে গত ১২ জুলাই জেলার আইন শৃঙ্খলা বিষয়ক কমিটির বৈঠকে বিষয়টি তুলে ধরেন এবং নিরাপত্তা জোরদারের দাবী জানান নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের এমপি আবদুল্লাহ আল আমিন। স্মৃতিস্তম্ভটি তার নির্বাচনী আসনেই পড়েছে।
তার সেই বক্তব্যের ৯ দিনের মাথায় পুলিশের উপস্থিতি থাকতেই রাতের আধারে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে। পুলিশের উপস্থিতি থাকলেও পুলিশ কিছুই করতে পারেনি নীরব দর্শক হয়ে থাকা ব্যতিত। পুরো এলাকাটি সিসি ক্যামেরার আওতাধীন হলেও অপরাধীরা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর দুর্বলতা বুঝতে পেরেই এই হামলা চালানোর সাহস দেখিয়েছে।


































আপনার মতামত লিখুন :