আমেরিকার সাথে দেশবিরোধী বাণিজ্যচুক্তি বাতিল, চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশিদের ইজারা দেয়া ও রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান ব্যক্তি মালিকানায় দেয়ার চক্রান্ত বন্ধ করে আধুনিকায়ন করে চালু করাসহ নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করা এবং জনসাধারণের উপর কর ও বিদেশী ঋণের বোঝা কমানো, সীমান্ত হত্যা, পুশ-ইন বন্ধ করার দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটি।
২২ জুলাই বিকেল ৫ টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে এ বিক্ষোভ সমাবেশ করা হয়েছে। সমাবেশ পরবর্তী একটি মিছিল চাষাড়া শহীদ মিনারের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কমিউনিস্ট পার্টির জেলা কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শিবনাথ চক্রবর্তী, বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য দুলাল সাহা, জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক এম এ শাহীন, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য আঃ হাই শরীফ, শাহানারা বেগম, বিমল কান্তি দাস ও ইকবাল হোসেন প্রমুখ।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, একটি দেশের সাথে আরেকটি দেশের বাণিজ্য চুক্তি দুটো পক্ষের মধ্যে সমতা নিশ্চিতের মধ্যমে সম্পাদিত হয়। কিন্তু আমেরিকার সাথে স্বাক্ষরিত দেশের বাণিজ্যচুক্তিতে সমতার ছিটেফোঁটাও নেই। এই চুক্তির মধ্যে বাংলাদেশকে আন্তর্জতিক বাজার থেকে সস্তায় পণ্য কেনার স্বাধীনতা হরণ ও মার্কিন পণ্য বেশি দামে কেনার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এটি শুধু বাণিজ্যিকচুক্তি নয়, এটি একটি কৌশলগত অধীনতার দলিল। যা নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতির সরাসরি লঙ্ঘন। আমেরিকার সাথে দেশবিরোধী এই বাণিজ্যচুক্তি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। চট্টগ্রাম বন্দর দেশের কৌশলগত ও অর্থনৈতিকভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এই বন্দর বিদেশীদের কাছে ইজারা দেয়া হলে রাষ্ট্রের আর্থিক স্বার্থ, কর্মসংস্থান এবং জাতীয় নিরাপত্তার ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। চট্টগ্রাম বন্দর নিজস্ব পরিচানায় রাষ্ট্রকে উল্লেখযোগ্য রাজস্ব দিচ্ছে। একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান বিদেশীদের হাতে তুলে দেয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। বন্দরের নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন, দক্ষ জনবল নিয়োগ এবং স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বন্দরের কার্যক্রম আরো সম্প্রসারণ করা সম্ভব। সুতরাং কোনভাবেই চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশিদের কাছে ইজারা দেয়া চলবে না।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, দেশের জনগণের স্বার্থে গড়ে ওঠা রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প কারখানা কোন ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা দেশি-বিদেশি কর্পোরেট স্বার্থে ও তাদের মুনাফার উৎসে পরিণত হতে দেয়া হবে না। রাষ্ট্রীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ভূমি ও অবকাঠামো জনগণের সম্পদ, সাময়িক আর্থিক লাভ কিংবা বিনিয়োগ আকর্ষণের অজুহাতে এই সম্পদের ওপর রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল করা জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী। দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে এমন একটি ধারণা প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে যে, রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান মানে লোকসানি। বাস্তবতা হচ্ছে পরিকল্পিত দক্ষ ব্যবস্থাপনার অভাব ও আধুনিকায়ন না করে নীতিগত অবহেলার মাধ্যমে রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পকে সংকটের মুখে ঠেলে দেয়া হয়েছে। এরপর সেই অজুহাতে জনগণের সম্পদ বেসরকারি পুঁজির হাতে তুলে দেয়া উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। জনগণের স্বার্থ বিরোধী এই চক্রান্ত বন্ধ করে রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প কারখানা আধুনিকায়ন করে চালু করতে হবে। নতুন কর্মসংস্থান তৈরির মাধ্যমে দেশের বেকারত্ব দূরীকরণে সরকারের পক্ষ থেকে দায়িত্বশীল উদ্যোগ নিতে হবে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, জনসাধারণের উপর করের চাপ ও বৈদেশিক ঋণের বোঝা কমাতে হবে। সরকারি অর্থের অপচয়, বিদেশে অর্থ পাচার রোধ, দুর্নীতি দমন এবং মেগা প্রকল্পগুলোতে বৈদেশিক ঋণের নির্ভরতা কমিয়ে স্বচ্ছতা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের উপর পরোক্ষ কর( মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট) এর চাপ কমিয়ে প্রত্যক্ষ কর অনুপাত বৃদ্ধি করা এবং উচ্চ সুদের ঋণ এড়িয়ে দেশীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার দিকে সরকারের মনোযোগ দিতে হবে। সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান নেতৃবৃন্দ।






































আপনার মতামত লিখুন :