News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

শহরবাসীর বিনোদনের সিটি পার্ক অনিরাপদ


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: জুলাই ২৩, ২০২৬, ১০:৪৯ পিএম শহরবাসীর বিনোদনের সিটি পার্ক অনিরাপদ

শহরের দেওভোগ এলাকার শেখ রাসেল পার্ক (বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ সিটি পার্ক) সন্ধ্যার পর কিছু তরুণের অনৈতিক কার্যকলাপ ও ছিনতাইয়ের কারণে স্থানীয়দের কাছে বর্তমানে বেশ ভীতিকর ও বিতর্কিত হিসেবে পরিচিত। দিনের বেলা লেক ঘেরা সুন্দর পরিবেশ থাকলেও সন্ধ্যার পর পার্কের নির্জন অংশগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কম থাকে। পার্কের শেষ অংশে বা নির্জন কোনগুলোতে উঠতি বয়সী তরুণ-তরুণীদের অবাধ মেলামেশা এবং অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগ প্রায়ই উঠে আসে। অসামাজিক কাজে বাধা প্রদানে স্থানীয় যুবকরা অনেক সময় এ ধরনের আপত্তিকর অবস্থায় ধরে ফেলে মারধর বা হেনস্থা করে থাকে যা অনেক সময় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। একই সাথে ছিনতাই ও নিরাপত্তা ঝুঁকিতে দিনের আলো নিভে গেলেই পার্কের ভেতরের এবং বাইরের রাস্তায় অন্ধকার হয়ে যাওয়া অংশে ছিনতাইয়ের ভয় থাকে।

গত বছর দেওভোগের জিমখানা এলাকায় অবস্থিত ‘শেখ রাসেল নগর পার্ক’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘নারায়ণগঞ্জ সিটি পার্ক’ করা হয়েছে। প্রায় ১৮ একর জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা এই পার্কটি ৫৭ কোটি ৬৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নির্মিত এ পার্ক ২০২৩ সালের ১৪ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় এবং সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, পার্কের সৌন্দর্যবর্ধনে বিভিন্ন আধুনিক সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে। পার্কের লেক ঘিরে রয়েছে ওয়াকওয়ে, স্ট্রিট লাইট, সিটিং প্যাভিলিয়ন এবং পরিবেশবান্ধব সবুজ গাছপালা। দর্শনার্থীদের জন্য ৪টি ভিউইং ডেক, ৬টি ঘাটলা ও একটি নয়নাভিরাম ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া উন্মুক্ত মঞ্চ, খেলার মাঠ, পুরুষ ও নারীদের জন্য আলাদা পাবলিক টয়লেটসহ বিভিন্ন সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে। পার্কটিতে বিনোদনের আরও নানা আয়োজন রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বোট ক্লাব, সুইমিং পুল, ওয়াটার গার্ডেন, জিমন্যাস্টিক ক্লাব, স্কেটিং জোন, সাইকেল লেন ও ড্রাই ফাউন্টেন। এছাড়া চারুকলা চর্চার জন্য একটি আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন পরিবেশবান্ধব ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।

জানা যায়, শহরের জিমখানা অংশে সাবেক শেখ রাসেল পার্ক বর্তমানে সিটি পার্কের পেছনের অংশ অনিরাপদ হয়ে পড়েছে। সেখানে দিনে-দুপুরে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ছে দর্শনার্থীরা। একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্র সেখানে দর্শনার্থীর বেশে অবস্থান করে। সুযোগ বুঝে লুটে নেয় দর্শনার্থীদের মোবাইল ও টাকা পয়সা। গত এক মাসে কমপক্ষে ৮ থেকে ১০টি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে সেখানে।

বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পার্কে ছবি তোলা শেষে বের হওয়ার সময় দর্শনার্থী বেশে তিন ছিনতাইকারী তাদের ডাক দেয়। তারা কাছে আসতেই আরও তিন ছিনতাইকারী আসে। তাদের হাতে ধারালো চাকু সুইস গিয়ার ছিল। কিছু বুঝে উঠার আগে ছিনতাকারীরা তিন জনের কাছ থেকে ২টি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এসময় তারা বাঁধা দেয়ার চেষ্টা করেও পিছিয়ে যায়। কারণ ছিনতাইকারীদের হাতে ধারালো চাকু ছিল।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সারফারাজ সিয়াম জানায়, পার্কের পেছনে সাইটটি একেবারে নিরাপদ নয়। সেখানে দর্শনার্থীর বেশে কিছু ছিনতােইকারী অবস্থান করে। এবং সুযোগ বুঝে দর্শনার্থীর মোবাইল-টাকা পয়সা ছিনিয়ে নেয়। গত ১ মাসে ৮ থেকে ১০ জনে মোবাইল ছিনিয়ে নিয়েছে ছিনতাইকারীরা।  তাই দিনের বেলা পার্কের পেছনে সাইটে কেউকে না জন্য তিনি অনুরোধ জানিয়েছেন।

জিমখানা ও দেওভোগ এলাকায় অবস্থিত সিটি পার্কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপরাধমূলক কর্মকা- দমনে মাঝেমধ্যেই জেলা পুলিশের টহল পরিচালিত হয়। পার্কে অপরাধ রোধে মাঝে স্থানীয় যুবকরাও অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িতদের আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এছাড়া র‍্যাব এবং ডিবি পুলিশ বিভিন্ন সময় অভিযান পরিচালনা করে থাকে।

নারায়ণঞ্জ সিটি পার্ক ও এর আশেপাশের এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং বখাটে ও মাদকসেবীদের উৎপাত রোধে স্থানীয়রা নিয়মিত পুলিশি অভিযান ও টহল জোরদার করার জানিয়েছে আগত ও এলাকাবাসী। পার্ক এলাকায় নিয়মিত মাদক কেনাবেচা ও অপরাধমূলক কর্মকা-ের অভিযোগ রয়েছে, সেগুলো ধ্বংস করতে অভিযান অব্যাহত চেয়েছে।