News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

মাদক নির্মূলে চুনোপুঁটি বনাম মূল হোতা


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | অ্যাডভোকেট শরীফুল ইসলাম শিপলু প্রকাশিত: জুলাই ২৩, ২০২৬, ১০:০৭ পিএম মাদক নির্মূলে চুনোপুঁটি বনাম মূল হোতা

মাদকের ভয়াবহ গ্রাস আজ আমাদের সমাজ, অর্থনীতি এবং যুবসমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এই মহামারি প্রতিরোধে প্রায়শই 'জনসচেতনতা' ও 'জনগণের দায়বদ্ধতা'র কথা বলা হয়। কিন্তু প্রশ্ন ওঠে-একটি রাষ্ট্রে যেখানে পেশাদার আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, সুশিক্ষিত পুলিশ বাহিনী এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিশাল সুযোগ-সুবিধা রয়েছে, সেখানে কেবল মানববন্ধন, সভা-সেমিনার বা সিম্পোজিয়াম করে মাদকের বিস্তার কতটা রোধ করা সম্ভব?

সামাজিক সচেতনতার গুরুত্ব অনস্বীকার্য, কিন্তু সচেতনতা কখনো অপরাধ দমনের প্রাথমিক হাতিয়ার হতে পারে না। মাদক বিক্রেতা বা পাচারকারীরা কোনো সভা-সমাবেশের ভাষণ শুনে তাদের কোটি কোটি টাকার ব্যবসা বন্ধ করে দেবে-এমন ভাবনা বাস্তবসম্মত নয়। মাদক নির্মূলের মূল আইনি ও নির্বাহী দায়িত্ব রাষ্ট্রে অবস্থানরত আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর। যখন কোনো অঞ্চলে মাদকের সহজলভ্যতা তৈরি হয়, তখন প্রশাসনিক ব্যর্থতার দায় সাধারণ জনগণের ওপর চাপিয়ে 'সচেতনতামূলক কর্মসূচির' আড়ালে মূল দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার সুযোগ নেই।

নারায়ণগঞ্জ বন্দরের আনাচে-কানাচে মাদকের সয়লাব যা আজকের নগ্ন সত্য। প্রতিদিন পুলিশের টহলে কিছু পথভ্রষ্ট মাদকসেবী বা খুচরা বিক্রেতা গ্রেফতার হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু এলাকায় আসা মাদকের বড় বড় চালান এবং এর পেছনের রুটগুলো কি বন্ধ হচ্ছে? মাদক ব্যবসার মূল গডফাদার বা বড় ডিলাররা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। পুলিশের বিশাল বাহিনী ও বিশাল 'সোর্স' নেটওয়ার্ক যদি কেবল খুচরা সেবীদের ধরতেই ব্যস্ত থাকে, তবে বুঝতে হবে মাদকের সরবরাহের মূল উৎস বন্ধে সমন্বিত ও আন্তরিক পদক্ষেপের ঘাটতি রয়েছে।যা থেকে নানা কিন্তুর জন্ম হয়।

দেশের সর্বোচ্চ পর্যায় বা স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী যখন নারায়ণগঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মাদকের নির্দিষ্ট স্পট ও ভয়াবহতার কথা স্মরণ করিয়ে দেন, তখন জেলা পুলিশ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ঘুম হারাম হয়ে যাওয়ার কথা। নারায়ণগঞ্জের মতো শিল্প ও বাণিজ্যিক এলাকায় মাদকের প্রতিটি ডেরা গুঁড়িয়ে দিতে “জিরো টলারেনস” নীতি বাস্তবে রূপায়ণ করাই ছিল প্রত্যাশিত। কিন্তু বাস্তবে তা কতটা প্রতিফলিত হচ্ছে, তা নিয়েও কিন্তু রয়েছে।

মাদকের মতো সুসংগঠিত অপরাধচক্রকে হারাতে হলে কেবল আলোচনার টেবিলে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; দরকার মাদকের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক কঠোর আইনি 'জিহাদ'। মাদকসেবী চুনোপুঁটির পেছনে শক্তি ও সময় অপচয় না করে মাদকের যোগানদাতা, ডিলার ও অর্থযোগানদাতাদের গ্রেফতার করতে হবে। মূল গডফাদারদের বিচারে সোপর্দ না করলে মাদক ব্যবসা বন্ধ হবে না।

সাধারণ মানুষের মানববন্ধন ও সচেতনতা সমাজকে জাগ্রত রাখতে পারে, কিন্তু মাদকের বড় চালানের পথ বন্ধ করা কিংবা সিন্ডিকেট ভাঙার ক্ষমতা তাদের নেই।