নারায়ণগঞ্জে তীব্র গরম অনুভূত হচ্ছে দুইদিন ধরে। গত রবিবার ও সোমবার অসহনীয় গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেন সাধারণ মানুষ। এর মধ্যে পল্লী বিদ্যুৎ অঞ্চলে চলে অসহনীয় লোডশেডিং। মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে কয়েকগুন, সেই সাথে অসুস্থ রোগীদের ভোগান্তি বাড়ে চরমে। তবে এই জেলায় ডিপিডিসি এবং পল্লী বিদ্যুৎ উভয় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান থাকায় লোডশেডিং এলাকা ভেদে ভিন্ন চিত্র বহন করে। তীব্র গরমের মাঝে ডিপিডিসি নিয়ন্ত্রনাধীন অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও পল্লী বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রনাধীন এলাকায় চলছে ঘন ঘন লোডশেডিং।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা, সদর এবং সিদ্ধিরগঞ্জ অঞ্চল ডিপিডিসির আওতায়। এই অঞ্চলে লোডশেডিং এর প্রভাব খুবই কম। তবে বন্দর, সোনারগাঁ, আড়াইহাজার এবং রূপগঞ্জ অঞ্চলে ব্যাপক লোডশেডিং এর অভিযোগ বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের। বিশেষত ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
নারায়ণগঞ্জ শহরে ডিপিডিসির আওতায় থাকা বাসিন্দারা বলছেন, শহরে অপেক্ষাকৃত কম লোডশেডিং হচ্ছে। অপেক্ষাকৃত নিরবছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ার কারনে গরমে ভোগান্তি কিছুটা কম। তবে লোডশেডিং একেবারেই যে নেই তা বলা যাচ্ছে না। তবে পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় লোডশেডিং ব্যাপক। দিনে অন্তত ৭/৮ বার লোডশেডিং হচ্ছে। প্রতিবার লোডশেডিং এক থেকে দেড় ঘন্টা বন্ধ থাকছে বিদ্যুৎ। এতে বাড়ছে গ্রাহকদের ভোগান্তি, বাড়ছে ক্ষোভ।
আড়াইহাজার পৌর এলাকার রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী নাহিদ হিমু বলেন, এখানে লোডশেডিং এর কারনে টানা ৬ ঘন্টা দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। আমাদের ফ্রিজের খাবার নষ্ট হয়, গ্রাহকদের খাবার সরবরাহ করতে পারছি না। বাসাবাড়িতে সোলার বসাতে বাধ্য হচ্ছি। শিশু ও বৃদ্ধরা অসহনীয় কষ্ট ভোগ করছে তীব্র গরমে। একদিকে বিদ্যুৎ নেই, অন্যদিকে তীব্র গরম। গরমের কারনে নানান অসুখও দেখা দিচ্ছে।
বন্দরের সাবদি অঞ্চলের বাসিন্দা ইমন বলেন, রাতে বিদ্যুৎ থাকছে না বললেই চলে। মানুষ শান্তিতে ঘুমাতেও পারছে না। অসহনীয় হয়ে উঠছে লোডশেডিং। যেকোন সময় মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও করবে। তীব্র গরমে মানুষ হাসফাঁস করছে প্রতিনিয়ত।
ডিপিডিসি নারায়ণগঞ্জ পশ্চিম জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, আমাদের এরিয়াতে কোন সংকট নেই। কোন ঘাটতি না থাকা লোডশেডিংও হচ্ছে না। কোথাও দুর্ঘটনার কারনে সাময়িক সরবরাহ বন্ধ থাকতে পারে। আমাদের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ২ (আড়াইহাজার রূপগঞ্জ) জোনের সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার বলেন, ‘আমাদের এখানে চাহিদা ২১০ মেগাওয়াট। তবে আমরা পাচ্ছি ১৭৫ মেগাওয়াট। যেই কারনে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলে আমরা চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হবে

































আপনার মতামত লিখুন :