News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

`নিরালা তুই খুব সুখে থাকিস’ গার্মেন্ট কর্মীর লা/শের পাশে চিরকুট


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি প্রকাশিত: আগস্ট ১০, ২০২৬, ১০:১৮ পিএম `নিরালা তুই খুব সুখে থাকিস’ গার্মেন্ট কর্মীর লা/শের পাশে চিরকুট

'নিরালা তুই খুব সুখে থাকিস,তোরে বিয়া কইরা আজকে দুঃখকষ্ট সইজ্য করতে না পাইরা গলায় দড়ি দিয়া মরছি।আমার মৃত্যুর জন্য নিরালা, বৃষ্টি আর রাজু দায়ী" বালিশের নিচে এমন অভিমানী তিনটি লিখুনির চিরকুট রেখে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে লোহার এঙ্গেলের সঙ্গে গলায় রশি পেঁচানো অবস্থায় মো. নাজিম (২৭) নামক এক গার্মেন্টস কর্মীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

রবিবার (৯ জুলাই) সকালে নাসিক ১০নং ওয়ার্ডস্থ গোধনাইল ভূইয়াপাড়া এলাকার ভিকটিমের নিজ বাসা থেকে মরদেহ পাওয়া যায়।

নিহত গার্মেন্ট কর্মী হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানার মো. সেজু মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় ও পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, ভিকটিম নীট কনসার্ন নামক গার্মেন্টসের শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সে এবং তার স্ত্রী নিরালা ১০নং ওয়ার্ডস্থ গোধনাইল ভূইয়াপাড়া এলাকার ইসমাইল হোসেন সুজন নামক এক বাড়ি মালিকের দ্বিতীয় তলার ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিল। স্বামী-স্ত্রী ও একজন কন্যা সন্তান নিয়ে সুখের সংসার চলছিল তাদের। তবে সেই সুখের সংসারে রাজু নামের এক যুবকের হস্তক্ষেপে পারিবারিক কলহে অশান্তি সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ লম্বা সময় ধরে সেই রাজুর সঙ্গে নিহতের স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্ক তৈরি হয় এবং একপর্যায়ে সাম্প্রতিক সময়ে স্ত্রী নিরালা তার প্রেমীক রাজুর সঙ্গে পালিয়েও যান। পরবর্তীতে পারিবারিকভাবে সমঝোতার মাধ্যমে নিরালাকে নিহতের বাসায় ফিরিয়ে আনলেও গতকাল শনিবার পূনরায় তাদের মধ্যে ঝগড়া সৃষ্টি হয়। এরপর নিরালা নিজ বাসা থেকে তার বোনের বাসায় চলে যান। পরে আজ সকালে নিহতের বাড়ি মালিকের স্ত্রী জানালা দিয়ে মরদেহ ঝুলে থাকা অবস্থায় দেখতে পেয়ে নিরালাকে ফোন করে অবগত করান। পরবর্তীতে স্ত্রী ও আশপাশের প্রতিবেশীরা বিষয়টি পুলিশ জানালে পুলিশ ঘটনাস্থল পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেন।

মরদেহ উদ্ধারে যাওয়া সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইউসূফ আলী জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্যে মর্গে পাঠানো হয়েছে। এবং মরদেহের পাশে চিরকুট পাওয়া গিয়েছে,যাতে লিখা ছিল স্ত্রী ও স্ত্রীর বোন এবং প্রেমিক রাজুর কারণে আত্মহত্যা করা হয়েছে। এই বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখছি। নিহতের স্ত্রী ও স্ত্রীর বোন আপাতত থানায় আমাদের হেফাজতে রয়েছে। তবে রাজু পলাতক আছেন। এ ঘটনায় পরবর্তীতে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হক বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পাবার পর বিস্তারিত বলা সম্ভব এবং চিরকুটের বিষয়টি আমি অবগত নই।