News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

অগ্নিকাণ্ড হাসপাতালে সংজ্ঞাহীন বাবা, স্ত্রী ও পুত্রের বিদায়


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: আগস্ট ১০, ২০২৬, ১০:১১ পিএম অগ্নিকাণ্ড হাসপাতালে সংজ্ঞাহীন বাবা, স্ত্রী ও পুত্রের বিদায়

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে গ্যাস লিকেজ থেকে সংগঠিত আগুনে ছেলের পর দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছে মা বিউটি (২৪)। সোমবার সকাল পৌনে সাতটায় রাজধানীর জাতীয় বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

তবে এখনও সংজ্ঞাহীন অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বাবা মাইদুল (২৬)। গত শুক্রবারের আগুনে তার শরীরের ৮৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে চিকিৎসকরা।

মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের আবাসিক সার্জন সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান। তিনি জানান, নিহত বিউটির শরীরের ৮০ ভাগ দগ্ধ হয়েছিলো। আজ সকালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

গত শনিবার দুপুরে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় বিউটি ও মাইদুল দম্পতির ৮ বছর বয়সী শিশু মারুফ। আগুনে ৯০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিলো তার দেহ। একই পরিবারের তিন সদস্যের এমন করুন পরিনতিতে ভারী হয়ে উঠেছে বন্দরের কুড়িপাড়া চাপাতলী এলাকা। পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

বাড়িওয়ালা সেলিম বলেন, দম্পতির বাড়ি নাটোর জেলায়। এক বছর আগে তারা আমার বাসায় ভাড়া নেয়। মাইদুল পেশায় রাজমিস্ত্রী। এখানে তার পরিবার নিয়ে বসবাস করতো। শুক্রবার সকালে হটাৎ বিকট শব্দে আগুন ধরে যায় আমার টিনশেড ঘরে। সেখানে দগ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায় মাইদুল, তার স্ত্রী বিউটি ও ছেলে মারুফকে।

তিনি আরও বলেন, ‘নিহতদের মরদেহ হাসপাতাল থেকেই নাটোরের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। যেদিন দুর্ঘটণা ঘটেছিলো সেদিন মাইদুলের শাশুড়ি এসেছিলেন। তবে এখন পরিবারের সকলেই হাসপাতালে অবস্থান করছেন।’

মাইদুলের প্রতিবেশী ফারুক সরদার বলেন, ‘ওরা খুব শান্ত স্বভাবের ছিলো। ভাড়া বাসায় থাকলেও কোন ঝগড়া বিবাদে ছিলো না। অল্প বয়সে বিয়ে করেছে, জামাই বউয়ের মধ্যেও বিবাদ দেখিনাই আমরা। এভাবে আগুনে বউ বাচ্চা মারা যাবে এটা দুঃখজনক। মাইদুলের অবস্থাও নাকি ভালো না।’

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, টিনের ভাড়াবাড়িতে থাকতেন পরিবারটি। তাদের ঘরের পাশেই রান্নাঘর। রান্নাঘরে তিতাসের গ্যাসের লাইনের লিকেজ থেকে ঘরের ভেতর জমা গ্যাস থেকে এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। এই বিষয়ে আমাদের বিস্তারিত তদন্ত চলছে।