News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩

স্থায়ীত্বের অনিশ্চয়তায়ও হকার পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার কাজ


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: আগস্ট ১৬, ২০২৬, ১০:২৯ পিএম স্থায়ীত্বের অনিশ্চয়তায়ও হকার পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার কাজ

শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষের হাজারো সমস্যার অন্যতম একটি সমস্যা হলো ফুটপাতের হকার। ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদ করে নগরবাসীকে হাটাচলার জন্য উন্মুক্ত ফুটপাতের ব্যবস্থা করতে নারায়ণগঞ্জে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। সবশেষ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নগরীর ফুটপাত থেকে হকারদের উচ্ছেদের কর্মসূচি হাতে নিয়ে সাময়িক সফলতা পেয়েছিলেন নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান। কিন্তু সেই সফলতা খুব বেশি দীর্ঘ হয়নি। এবার হকারদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে শহরের ২নং রেলগেইট থেকে চাষাঢ়া পর্যন্ত রেলওয়ের জমিতে নেওয়া হচ্ছে বিকল্প ব্যবস্থা। তবে নারায়ণগঞ্জ-কমলাপুর ডুয়েলগেজ লাইন প্রকল্পের চলমানের কাজের মধ্য দিয়ে পুনর্বাসনের সময়সীমা অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়েই এগিয়ে চলছে পুনর্বাসনের কাজ।

জানা গেছে, নগরীর বিবি রোড, শহীদ সোহরাওয়ার্দী সড়ক, শায়েস্তা খান সড়ক ও নবাব সিরাজদৌলা সড়কের ফুটপাতে থাকা হকারদের পুনর্বাসনের জন্য ২নং রেলগট থেকে চাষাঢ়া পর্যন্ত রেলসড়কের পাশের জায়গায় স্থানান্তরের উদ্দেশ্যে ২৫ জুলাই থেকে ওই সকল স্থানের ময়লা আবর্জনা পরিস্কার করা শুরু করে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন। ২৭ জুলাই থেকে ২২ফুট প্রশস্ত জায়গা নিয়ে শুরু করা হয় ইটের সোলিং। সেদিন নাসিক প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান স্থানটি পরিদর্শন করে প্রকৃত হকারদের তালিকা করে সেখানে পুনর্বাসন করার ঘোষণা দিয়ে ছিলেন।

পরবর্তীতে ১ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ-কমলাপুর ডুয়েলগেজ রেললাইন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক অভিযানে এসে রেলের জায়গা ছেড়ে দেওয়ার জন্য ৭দিনের সময় বেধে দেন। তবে ৪ আগস্ট সকালে প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় তারা সিটি কর্পোরেশন থেকে করা ইটের সোলিং ভেকু দিয়ে উপড়ে ফেলেন। এ সময় সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে রেললাইনের পাশে রেলওয়ের জমিতে থাকা অবৈধ স্থাপন উচ্ছেদ ও আবর্জনা পরিস্কার করে ইটের সোলিং করা রাস্তা এবং বাঁশ দিয়ে নিরাপত্তা বেস্টনি গুড়িয়ে দেয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান।

এ সময় তিনি উচ্ছেদ অভিযানে বাধা দিয়ে প্রকল্প পরিচালক সেলিম রওফ উপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

পরে তিনি বলেন এখানে জনস্বার্থে একটি কাজ করা হচ্ছে যখন আপনাদের প্রয়োজন হবে তখন আমাদের জানাবেন আমরা জায়গা ছেড়ে দেবো। আপাতত এই সড়কে যেসব অবৈধ স্থাপন রয়েছে সেগুলো উচ্ছেদ করেন কিন্তু হকারদের পুনর্বাসনের জন্য যে সকল ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে সেগুলো উচ্ছেদ করা যাবেনা। আমরা আপনাদের এই জায়গা থেকে আবর্জনা পরিস্কার করেছি। দখলমুক্ত করেছি। সরকারি টাকাতেই করেছি। এই জায়গা তো আপনাদেরই থাকবে। জায়গাটা ফরওয়ার্ড থাকতে তো আপনাদেরই লাভ। আর এটা থাকলে আপনাদের জায়গা আর বেদখল হবেনা। যেসব জিনিস আপনাদের কাজে সমস্যা হচ্ছে পাকঘর সহ অন্যান্য স্থাপনা সেগুলো ভাঙেন। আমরা আপনাদের সহযোগিতা করবো। কিন্তু আমরা ইট বিছাবো সেগুলো ভাঙবেন না। আমরা যে ইট বিছাবো সেগুলো পরে আপনাদেরই থাকবে। যেদিন আপনাদের এই জায়গার প্রয়োজন হবে, আমার সাথে কথা বলবেন আমরা এই জায়গা ছেড়ে দিবো। রেলওয়ের প্রকল্প হোক এটা আমরাও চাই। রেলমন্ত্রীর সাথে আমার কথা হয়েছে। এটা হতে কত সময় লাগবে আমার জানা আছে। যখন এটা আপনাদের প্রয়োজন হবে সেদিন আমরা আমি নিজে থেকে এই জমি ছেড়ে দিবো। এরপর থেকে ওই স্থানে হকার পুনর্বাসন তৈরি কাজ চলমান রয়েছে।

এদিকে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইতোমধ্যে ডুয়েলগেজ লাইন কমলাপুর থেকে চাষাঢ়া পর্যন্ত কাজ সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে। কেন্দ্রীয় রেলস্টেশনে প্লাটফরমের কাজ শুরু করা হয়েছে। দ্রুত গতিতে এ কাজ এগিয়ে চলছে। আগামী কয়েকমাসের মধ্যে কেন্দ্রীয় স্টেশন থেকে চাষাঢ়া পর্যন্ত কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে।

এমনতাবস্থায় রেলওয়ের উক্ত জমিতে ফুটপাতের হকারদের পুনর্বাসনের কত সময়ের জন্য সেখানে স্থায়ী হবে এমন অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়েই এগিয়ে চলেছে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া।