দুইদিন ধরে সিএনজি স্টেশনে রাত কাটাচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকপাড়া এলাকার বাসিন্দা আজিজুর রহমান। সিএনজি চালিত অটোরিকশাটি তার জীবিকার একমাত্র উৎস। বাড়িতে থাকা স্ত্রী ও চার বছরের শিশুর খাবার চলছে জমানো টাকা আর দোকান বাকির উপর। বাড়তি খরচ এড়াতে সিএনজি স্টেশনের পাশের দোকানে রুটি কলা খেয়ে দুপুরের খাবার সেরেছেন।
আজিজুরের মত এমন অবস্থা জেলার শত শত সিএনজি অটোরিকশা চালকের। কারও কারও সিএনজি ব্যক্তিগত হলেও অধিকাংশ চালান মালিককে দৈনিক জমা খরচ দিয়ে। গত তিনদিন ধরে সিএনজি স্টেশনে গ্যাস না থাকায় বন্ধ হয়ে আছে সিএনজি চালিত যানবাহন চলাচল। কেবল অটোরিকশাই নয়, অসংখ্য বাস, প্রাইভেটকার, পিকআপ বসে আছে দিনরাত। চালকরা গাড়ির ভেতরে ঘুমিয়ে সময় কাটাচ্ছেন। কখন গ্যাস আসবে তা কেউ জানেনা।
নারায়ণগঞ্জ শহরের জেলা পরিষদ এলাকায় অবস্থিত ম্যাস সিএনজি স্টেশনে গিয়ে দেখা যায় এমনই চিত্র। জেলার ৩৩ টি সিএনজি স্টেশনের মধ্যে ৩১ টি সিএনজি স্টেশনই বন্ধ রয়েছে। সোনারগাঁ অঞ্চলের দিকে থাকা দুইটি সিএনজি স্টেশনে সামান্য গ্যাস সরবরাহ পাওয়া যায় বলে গুঞ্জন রয়েছে চালকদের। তবে সেখানেও রয়েছে লম্বা লাইন।
সরেজমিনে সিএনজি স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, চালকরা গাড়ির ভেতর ঘুমিয়ে সময় কাটাচ্ছেন। কেউ কেউ চায়ের দোকানে, আবার কেউ সিএনজি স্টেশনের বিশ্রামাগারে শুয়ে বসে আড্ডা দিচ্ছেন। কথা বলতেই আক্ষেপ প্রকাশ করেন নিজেদের অবস্থা নিয়ে। চালকরা বলেন, ‘এতদিন গ্যাসের চাপ কম ছিলো, তখন কত হায়হুতাশ করছি। এখন তো গ্যাসই নাই। চাকা ঘুরে না, আমাগো সংসারও চলতাছে না। যদি গ্যাসের দাম বাড়াইতে চায় তাইলে বাড়াইয়া দেক। এমনে গ্যাস না দিয়া কষ্ট দেওন দরকার নাই।’
গাড়ি চালক মোতালেব বলেন, ‘রেন্ট এ কারে গাড়ি চালাই। প্রথম দুইদিন তেলে গাড়ি চালাইছি। এখন আর পোষাইতে পারতাছি না। এজন্য এখানে আইসা বইসা রইছি। অনেকেই গাড়ি ভাড়া নেয়ার জন্য কল দেয়, যখন বলি তেলের দামে ভাড়া দিতে হইবো, তখন আর কেউ যাইতে রাজি হয় না। যাত্রীগো দুর্ভোগ, আমাগোও খ্যাপ বন্ধ।’
এদিকে শহরে কমে গেছে যান চলাচল। শহরের রাস্তায় সিএনজি নেই বললেই চলে। সেই সাথে কমে গেছে সিএনজি চালিত গাড়ি, বাস ও পিকআপ। সোনারগাঁ ও বন্দরে কিছু সিএনজি চললেও তারা ভাড়া হাঁকছে কয়েকগুন। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, বন্দরের নবীগঞ্জ থেকে মদনপুর পর্যন্ত ৩০ টাকার ভাড়া চাওয়া হচ্ছে ১০০ টাকা। একই ভাবে সোনারগাঁয়ের মোগড়াপাড়া থেকে বন্দর পর্যন্ত ৫০ টাকার ভাড়া চাওয়া হচ্ছে ১৫০ টাকা।
তিতাস নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক বিপণন বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক মনজুর আজিজ মোহন বলেন, ‘ইতোমধ্যে অনেক আবাসিক লাইনে গ্যাস চলে এসেছে গতরাত থেকে। আশা করছি দ্রুতই বানিজ্যিক লাইনে গ্যাস চলে আসবে।’




































আপনার মতামত লিখুন :