News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩

নতুন করে আলোর মুখ দেখছে কদম রসূল সেতুর পূর্ব পাড়ের নির্মাণ কাজ


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬, ১০:০১ পিএম নতুন করে আলোর মুখ দেখছে কদম রসূল সেতুর পূর্ব পাড়ের নির্মাণ কাজ

নতুন করে আলোর মুখ দেখছে কদম রসূল সেতুর পূর্ব পাড়ের নির্মাণ কাজ। যথাসময়ে রেলওয়ের জমি সেতু কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে না দেয়ায় নির্মাণ কাজ বন্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

সে আশঙ্কা থেকে গত ১৭ আগস্ট স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে আগামী ২০ দিনের জন্য সেতু নির্মাণ কাজের জন্য রেলওয়ের জমি বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিক ভাবে চিঠি প্রদান করে।

এর জবাবে গত ৩ সেপ্টেম্বর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কদমরসুল ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্পের অনুকূলে বাংলাদেশ রেলওয়ের হস্তান্তরযোগ্য ভূমির প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণ ও সীমানা চিহ্নিতকরণের জন্য দুই সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল গঠন করে।

সোমবার ৭ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের একান্ত সচিব কে.এম ফরিদুল মিরাজ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে রেলওয়ের জমি উপর নির্মিত দোকান পাট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সহ সকল স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। নোটিশের পরবর্তী কার্যক্রম অনুযায়ী ১০ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় কালীরবাজার চারারগোপ এলাকায় রেলওয়ের জমিতে উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালা করবেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন।

সোমবার ৭ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের একান্ত সচিব কে.এম ফরিদুল মিরাজ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ১০ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় সিটি কর্পোরেশন থেকে উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন শীতলক্ষ্যা নদীর উপর ৫ নং গুদারাঘাটের নিকট কদম রসুল ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বার্থে কালিবাজার এলাকার নির্ধারিত ভূমি ও তৎসংলগ্ন এলাকার দোকান মালিক, ভাড়াটিয়া, ব্যবসায়ী, ও বাসিন্দাদের অনুরোধ করা যাচ্ছে যে, ব্রিজ নির্মাণের কাজ সুষ্ঠু ও নির্র্রিবঘœ ভাবে বাস্তবায়নের স্বার্থে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর (আগামী কাল বুধবার) এর মধ্যে নিজ দায়িত্বে সংশ্লিষ্ট ভূমি হতে স্থাপনা/অবকাঠামো খালি করে অপসারণ করার জন্য অনুরোধ করা হলো।

নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে খালি/অপসারণ করা না হলে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ পরের দিন ১০ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা হতে উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

এক্ষেত্রে অবকাঠামো অপসারণ না করার কারণে কোন ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হলে তার জন্য সিটি কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। উক্ত গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তুরিক সহযোগিতা একান্তভাবে কাম্য।

এ ব্যাপারে কদমরসুল সেতুর প্রকল্প পরিচালক হরিকিংকর মোহন্ত জানান, সিটি কর্পোরেশন থেকে একটি নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। তবে আমরা চাচ্ছিলাম উচ্ছেদের সময় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ থাকুক এবং উচ্ছেদের পূর্বে তাদের একটি প্রতিনিধি দল স্থানটি ভিজিট করুক। এতে করে ভূমি এবং স্থাপনার ক্ষতিপূরণ নির্ধারণে অনেক সুবিধা হতো।

এ ব্যাপারে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে রেলওয়েকে যে চিঠি দেওয়া হয়েছিলো সেই চিঠির জবাব উনারা অনেক বিলম্ব করে দিয়েছেন। তারা এ ব্যাপারে একটি কমিটি গঠন করেছেন।

গত ৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ রেলওয়ের উপ-পরিচালক (ভূমি সম্পত্তি) মো. আবরার হোসেন স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, "নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৫নং গুদারাঘাটের নিকট শীতলক্ষ্যা নদীর উপর কদমরসুল ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্প (১ম সংশোধিত) শীর্ষক প্রকল্পের অনুকূলে বাংলাদেশ রেলওয়ের হস্তান্তরযোগ্য রেলভূমি ও ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সেকশনে বিদ্যমান মিটার গেজ রেললাইনের সমান্তরাল ডুয়েল গেজ রেললাইন নির্মাণ প্রকল্প এর মাধ্যমে বাংলাদেশ রেলওয়ের নকশা অনুযায়ী ডাবল লাইন নির্মাণের নিমিত্ত প্রয়োজনীয় ভূমির প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণ ও সীমানা চিহ্নিতকরণের জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রতিনিধি হিসেবে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সেকশনে বিদ্যমান মিটার গেজ রেললাইনের সমান্তরাল ডুয়েল গেজ রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তাকে মনোনীত করা হলো।

এর আগে গত ১৭ আগস্ট স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রধান প্রকৌশলী(গ্রেড-১) স্বাক্ষরিত একটি চিঠি বাংলাদেশ রেলওয়ে এর মহাপরিচালকের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে।

জমি হস্তান্তরে বিলম্ব হলে সেতুর পরবর্তী নির্মাণকাজ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি প্রকল্পটির নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধি এবং নারায়ণগঞ্জ ও বন্দরের মানুষের কাক্সিক্ষত সুবিধা বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে চিঠিতে বিশেষ ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৫নং গুদারাঘাটের নিকট শীতলক্ষ্যা নদীর উপর কদমরসুল ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্পের (১ম সংশোধিত) কাজ চলমান। বাংলাদেশ রেলওয়ের মালিকানাধীন, এই ব্রিজটি নির্মাণের জন্য চাহিত ভূমির দখল হস্তান্তর প্রকল্পের নির্মাণ কাজ নিবিঘেœ ও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অত্যাবশ্যক।

জমি হস্তান্তরের লক্ষ্যে ২০২৩ সালের ১৮ মে এলজিইডি ও বাংলাদেশ রেলওয়ের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। পরবর্তীতে গত ২৭ জুলাই অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশ রেলওয়ে এলজিইডির চাহিত জমি হস্তান্তর করবে। ওই জমিতে থাকা স্থাপনার ক্ষতিপূরণ এলজিইডি সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রদান করবে।

তবে স্থাপনার ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ ও পরিশোধের প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ হওয়ায় জমি হস্তান্তরের সঙ্গে ক্ষতিপূরণ প্রক্রিয়াকে পূর্বশর্ত হিসেবে না রাখার বিষয়টি চিঠিতে তুলে ধরা হয়েছে। এলজিইডি বলছে, ভূমির দখল হস্তান্তর এবং ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ ও পরিশোধের কার্যক্রম একই সঙ্গে করা হলে নির্মাণকাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হবে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, সেতুর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অংশের পাইল নির্মাণকাজ বর্তমানে প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট জমি ২০ দিনের মধ্যে হস্তান্তর না হলে পরবর্তী নির্মাণকাজ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এতে ঠিকাদারের কাজের অগ্রগতি ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ দাবি উত্থাপনের ঝুঁকি রয়েছে। ফলে প্রকল্পের ব্যয় ও বাস্তবায়নকাল উভয়ের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।