News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

বিএনপিতে বেড়ে উঠে মাদক কারবারীরা


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬, ১০:০৫ পিএম বিএনপিতে বেড়ে উঠে মাদক কারবারীরা

নারায়ণগঞ্জ শহরের আমলাপাড়া, চাষাঢ়া হকার্স মার্কেট সহ আশপাশ এলাকার যেসব চিহ্নিত মাদক কারবারী রয়েছে তারা নিয়মিত বিএনপির সভা সমাবেশে যেতেন। তাদের ডেরা হিসেবে হিসেবে ছিল হোসিয়ারী মিলনায়তন। সেখানে নিয়মিত এসব মাদক কারবারী ও সন্ত্রাসীদের যাতায়াত ছিল। ইতোমধ্যে চাষাঢ়ার শুভ হত্যা মামলায় রাহাতের ব্যবহৃত মটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। এর পরেই আলোচনায় আসে হোসিয়ারী মিলনায়তন। সেখানে এসব সন্ত্রাসীরা নিয়মিত যাতায়াত করতেন।

আমলাপাড়া এলাকার অনিক। তার মা ফাতেমা বেগম ফতে এলাকার চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা হিসেবে পরিচিত। এরই মধ্যে ডিবি তার বাড়িতে হানা দিলেও ধরতে পারেনি অনিককে। ডিবির উপস্থিতি টের পেয়ে কোনমতে পালিয়ে যান। কিন্তু এ অনিকের বিরুদ্ধে রয়েছে রাজনৈতিক নেতাদের শেল্টার গ্রহণের অভিযোগ।

গত দুই বছরে মহানগর বিএনপির একাধিক সভা সমাবেশ ও কর্মসূচীতে দেখা গেছে অনিককে। হোসিয়ারী সমিতি মিলনায়তনে এ অনিকের উদ্যোগে একাধিক কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয় যেখানে বিএনপির বিভিন্ন শ্রেণির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপুর সঙ্গেও অনিকের একাধিক ছবি দেখা গেছে। নির্বাচনে বিএনপির প্রচারণার পাশাপাশি ব্যক্তিদের পাশেও দেখা গেছে অনিককে।

স্থানীয়রা জানান, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর বেপরোয়া হয়ে উঠে অনিক ও তার অনুসারীরা। তারা আমলাপাড়া, হকার্স মার্কেট ও আশপাশ এলাকাতে মাদকের কারবার শুরু করে। এসব মাদক কারবারীরা নিয়মিত বিএনপির বিভিন্ন সভা সমাবেশে গিয়ে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠতে শুরু করে। ধরাকে সরা জ্ঞান করে একের পর এক কর্মকান্ড করে।

চাষাঢ়ায় হকার্স মার্কেটে গুলি ও ছুরিকাঘাতে মাদক ব্যবসায়ী শুভ দাসের হত্যাকান্ডে মাস্টারমাইন্ড খ্যাত অনিকের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জন মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী ছিল। নারায়ণগঞ্জ ডিবি পুলিশের ইতোমধ্যে অনিকের সহযোগিা মাইগ্যা সুমন, সিয়াম আহম্মেদ সিজান ও মো. সোহানকে গ্রেপ্তার করেছে।

মাদক নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় হকার্স মার্কেটে শুভ চন্দ্র দাস ওরফে মো. বিল্লাল হত্যাকা-ের ঘটনায় অধরা রয়েছে দুই ভাই রাহাত ও বাহার। তারা দুই ভাই। এরই মধ্যে হোসিয়ারী সমিতি মিলনায়তনের সামনে থেকে রাহাতের মটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। আর গ্রেপ্তারকৃত সুমন প্রকাশ্যে বলেছেন শুভ হত্যাকান্ডের পর তাকে বাহার ফোন করে বলেছিল ওস্তাদ কাজ তো সাকসেস। এ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হলে হত্যার রহস্য আরো বেরিয়ে আসবে মনে করা হচ্ছে।

শুভ ওরফে বিল্লাল হত্যা নিয়ে বাহার একটি ভিডিও বার্তায় জানান, আমি মিডিয়াতে দেখলাম মাইগ্যা সুমন বলেছে ‘ওস্তাদ কাম ওকে’। উল্টা আমি চিল্লাচিল্লি করছি তোমার আশকারাতে পোলা পাইত ওর লগে এডা করলো কামডা করলো। ওর সাথে শুভ সাথে আমার কি এই সম্পর্ক। আমলাপাড়া যে কোন সমস্যা অন্যকেউকে না পেলেও আমাকে পাইছে।

উল্লেখ্য, নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় ইয়াবা সহ শুভ চন্দ্র দাস ওরফে মোহাম্মদ বিল্লালের লাশ উদ্ধার করে সদর মডেল থানা পুলিশ। লাশের দেহে গুলি ও ছুরিকাঘাতে চিহৃ নিয়ে তদন্তে নামেন পুলিশ ও ডিবি। সিসিটিভি ফুটেজে সূত্রে প্রথমে সিয়াম আহম্মেদ সিজানকে গ্রেপ্তার মাধ্যমে মো. সুমন ওরফে মাইগ্যা সুমন ও তার সহযোগি মো. সোহানকে গ্রেপ্তার করে ডিবি তদন্ত টিম। এরপর থেকে হত্যার জট খুলতে শুরু করে।

ইতোমধ্যে মাইগ্যা সুমনের স্বীকারোক্তি মিশনপাড়া রামকৃঞ্চ মিশন আশ্রমে দেয়ালের বাগান থেকে অস্ত্র ও হোসিয়ারি সমিতির ফটক থেকে ব্যবহৃত মোটর সাইকেল উদ্ধার করে ডিবি। এরপর থেকে অনিক, অহিদ, বাহার ও রাহাতের খোঁজে নামে তদন্ত টিম।

৪ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে শুভ দাসকে ডেকে এনে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় সুমন, সিজান ও সোহানকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। রিমান্ডে থাকা সুমন হত্যাকান্ডের ব্যাপারে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করে। তার দেওয়া তথ্য মতে ডিবি অভিযান শুরু করে। অভিযানে রামকৃষ্ণ মিশনের সামনের গাছের ঝোপ থেকে একটি সাদা রঙয়ের বাজারে ব্যাগে রিভলভার উদ্ধার করা হয়। শুভকে এ রিভলভার দিয়েই গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল জানিয়েছেন সুমন।

নিহত শুভ দাসের মরদেহে ১০০ পিস ইয়াবা ও ৫টি গুলি খোসা উদ্ধার করেছিলো পুলিশের তদন্তকারী টিম। একই সাথে দেহে একাধিক ছুরিকাঘাতে করা হয়েছে মারা যাবার আগে।