News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

শামীম ওসমানের মুরিদ বিএনপির সামনে


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬, ১০:১৭ পিএম শামীম ওসমানের মুরিদ বিএনপির সামনে

নারায়ণগঞ্জের সন্ত্রাসীদের গডফাদার হিসেবে আলোচিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগের সাবেক এমপি শামীম ওসমানকে ‘পীর’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন বিএনপি ছেড়ে আওয়ামীলীগে যোগ দেয়া নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু। ক্ষমতার পালাবদলে জনপ্রতিনিধিত্ব ধরে রাখতে নিজ দলের সঙ্গে বেঈমানি করতে দ্বিধা করেননি। এমনকি ৫ আগস্ট সরকার পতনের কয়েকদিন আগেও ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের একটি জরুরী সভায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে নৈরাজ্য ও দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্রের আন্দোলন হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন মনিরুল আলম সেন্টু। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে দমাতে সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে নামবেন এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন বলেও সেই সময় হুঙ্কার দিয়েছিলেন সেন্টু। অথচ পট পরিবর্তনের পরে সেই সেন্টু এখন বনে গেছেন বিএনপি নেতা। তার দেখা মিলছে বিএনপির বিভিন্ন সভা সমাবেশ অনুষ্ঠানেও। সর্বশেষ তাকে গেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে র‌্যালীর অগ্রভাগে যেখানে ফতুল্লা থানা বিএনপি নেতাদের পাশে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনপির নেতৃত্বে চারদলীয় জোট সরকারের শাসনামলে মনিরুল আলম সেন্টু ছিলেন থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। পরে তিনি কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগের সরকারের আমলে কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানশীপ ধরে রাখতে বিএনপি ছেড়ে নৌকায় উঠেছিলেন। ২০১৫ সালের ২ জুন নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য শামীম ওসমানকে জনগণের নেতা ও ‘পীর’ আখ্যা দিয়ে আগামীতে তাকে বিজয়ী করার আহবান জানিয়ে বক্তব্য রাখেন মনিরুল আলম সেন্টু। তিনি বলেন, শামীম ওসমান যেভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তাতে করে তিনি রীতিমতো মানুষের মনে ‘পীর’ হয়ে উঠেছেন। ২০১৬ সালের ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে বিএনপির কোন প্রার্থীকেই নমিনেশন পেপার কিনতে দেয়নি সেন্টু ও তার লোকজন। শামীম ওসমানের পরামর্শে চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আনারস প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়ী হন। দলীয় প্রতীকে নির্বাচন না করায় বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয় চেয়ারম্যান প্রার্থী মনিরুল আলম সেন্টুকে। এরপরে তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করলেও বিএনপির রাজনীতিতে আর সক্রিয় ছিলেন না মনিরুল আলম সেন্টু। বরং আওয়ামী লীগের এমপি ও নেতাদের সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাকে দেখা যেত। পরবর্তীতে তাকে আবারো বহিস্কার করা হয়। এরপর ২০২১ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সেন্টু আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হয়ে জয়লাভ করেন।

২০২৪ সালের ৩১ জুলাই কাশিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের জরুরি সভায় চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু বলেন, কোটা ইস্যুতে আন্দোলনে যেভাবে রাষ্ট্রীয় সম্পদে ধ্বংসলীলা চালানো হয়েছে এ ধরনের নৈরাজ্য একাত্তরকে হার মানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ রক্ষায় কাজ করছে। আমাদের এখন ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে নামতে হবে। সে যদি আমার ভাই হোক, বাপ হোক। তারপরেও কোনো ছাড় নাই।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে বিদেশে পালিয়ে গেলে আরও অনেক জনপ্রতিনিধি ও নেতাদের মতো ভোল পাল্টানোর চেষ্টায় ছিলেন কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু। বিএনপির কতিপয় সুবিধাভোগী নেতাদের ছত্রছায়ায় চেয়ারম্যান পদেই বহাল ছিলেন সেন্টু। বিগত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের জোট প্রার্থী মুফতী মনির হোসেন কাসেমীর সুপারিশে সেন্টুর বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার হয়েছিল। পরে তাকে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে দেখা গিয়েছিল। তবে সেন্টুর বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার হলেও বিষয়টি ভালভাবে নেয়নি দলটির ত্যাগী নেতাকর্মীরা। যার প্রভাব দেখা গিয়েছিল জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। ফতুল্লা থানা এলাকাটি একসময় বিএনপির ঘাটি হিসেবে পরিচিত হলেও বিতর্কিতদের বিএনপিতে পুর্নবাসনের কারণে জোট মনোনীত খেজুর গাছ প্রতীকের প্রার্থী মুফতী মনির হোসেন কাসেমীর ভরাডুবি ঘটে।

এদিকে শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলায় আগামী তিন মাস দেশব্যাপী বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচির অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে র‌্যালী ও পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযানে তার সরব উপস্থিতি দেখা গিয়েছে। এসময় জেলা প্রশাসনের র‌্যালীতে ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ শীর্ষ নেতাদের পাশেই র‌্যালীর অগ্রভাগে তাকে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে। অথচ বিগত দিনে আন্দোলন সংগ্রামে মামলার আসামী হওয়া জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনিসহ আরো অনেকের স্থান হয়নি র‌্যালীর অগ্রভাগে। যা নিয়ে খোদ দলের নেতাকর্মীদের মধ্যেই বিরূপ সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

বিএনপি দলীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, বিগত ১৭ বছরে ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে আন্দোলন করতে গিয়ে তারা অসংখ্যবার মামলা নির্যাতন কারাবরণের শিকার হয়েছেন। যারা বিগত দিনে ফ্যাসিস্টদের সঙ্গে আতাত করেছিল তাদেরকেই আজকে প্রশাসনিকভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি বলেন, এটা ছিল জেলা প্রশাসনের কর্মসূচী। দলের বদনাম হয় বা দল বিব্রত হয় এমন কোন কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য আমাদেরকে দল থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যে কারণে আমরা এ বিষয়ে কোন প্রতিক্রিয়া দেখাইনি। তবে মনিরুল আলম সেন্টুর মতো এরকম আরো অনেকেই রয়েছে যারা বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগের লোকজনের সঙ্গে মিলে ব্যবসা বাণিজ্য করেছে ফায়দা লুটেছে আমাদের বিরুদ্ধে তথ্য দিয়ে আমাদেরকে জেলহাজতে পাঠিয়েছে তারাই আজকে টাকা পয়সা খরচ করে সামনের সারিতে অবস্থান করছে। এখন দল এসব বিষয়ে কি ব্যবস্থা নিবে সেটা দলই ভাল জানে।

এ বিষয়ে জানতে ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহীদুল ইসলাম টিটুর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।