News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩

বিএনপির-জামায়াত-এনসিপির মারামারি


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: এপ্রিল ২২, ২০২৬, ০৭:১৯ পিএম বিএনপির-জামায়াত-এনসিপির মারামারি

নারায়ণগঞ্জের সদর উপজেলায় একটি খেয়াঘাটের দরপত্র জমা দেয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপির সাথে জামায়াত ও এনসিপির মারামারি ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৫/৬ জন আহত হয়েছে।

সোমবার দুপুরে সদর উপজেলায় বক্তাবলী ঘাটের ইজারার দরপত্র জমা দেয়াকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা ঘটে। মারামারিতে জামায়াতের অনুসারীরা দরপত্র জমা দিতে না পারলেও এনসিপির কর্মীরা দরপত্র জমা দিয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বক্তাবলী খেয়াঘাটের ইজারার দরপত্র জমা দেয়ার নির্ধারিত তারিখ ছিলো সোমবার। এই ঘাটের ইজারা নিতে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি জামায়াত ও এনসিপির অনুসারীরা আগ্রহী ছিলো। তবে সকাল থেকে পুরো সদর উপজেলা কেন্দ্র ঘিরে রাখে ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহীদুল ইসলাম টিটুর অনুসারী এবং বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির নেতা নজরুল গ্রæপ ও রশিদ মেম্বার গ্রæপ।

দুপুর ১টায় জামায়াত এবং এনসিপির তরিকুল ও তাওহিদ সহ কর্মীরা দরপত্র জমা দিতে গেলে বাধা দেয় বিএনপি কর্মীরা। বক্তাবলী ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর আবু বকরকে মারধর করে বিএনপি কর্মীরা। তাড়িয়ে দেয়া হয় উপজেলা প্রাঙ্গন থেকে। দরপত্র জমা দিতে না পেরে চলে যান জামায়াত অনুসারীরা।

ঘটনা জানাজানি হতেই উপজেলার সামনে জড়ো হতে থাকে এনসিপির কর্মীরা। দুপুর আড়াইটায় ফের মারামারিতে জড়ায় বিএনপি ও এনসিপির কর্মীরা। মারামারির এক পর্যায়ে এনসিপির কর্মীরা বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীদের মারধর করে তাড়িয়ে দেয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

হামলার শিকার এনসিপি নেতা তাওহীদ বলেন, সকাল থেকে ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি টিটুর অনুসারীরা আমাদের ভেতরে ঢুকতে দিচ্ছিলো না। আমরা এর প্রতিবাদ করলে তারা আমাদের মারধর করে। আমি এবং জামায়াতের আমীর আবু বকর আহত হই তাদের মারধরে। আমাকে মারধর করার খবর পেলে আমাদের কর্মীরা উপজেলায় জড়ো হয়। তখন বিএনপির নেতাকর্মীরা ফের উস্কানি দিয়ে মারামারিতে জড়ায়।

বক্তাবলী ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর আবু বকর বলেন, ‘এনসিপি নেতা তাওহীদকে বাঁচাতে গিয়ে আমি মারধরের শিকার হই। আমার পরিচিত দুই ছোটভাই মোকলেসিন ও শাহীন দরপত্র জমা দিতে আসে। মারামারি ও বিএনপির বাধার কারণে তারা দরপত্র জমা দিতে পারেনি।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম প্রধানের নেতৃত্বে ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক হালিম, ইউনিয়ন যুবদলের সেক্রেটারি আবুল খায়ের, ৩ নাম্বার ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মোজাম্মেল প্রধান আমাদের মারধর করেছে।

ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু বলেন, ‘আমরা সমঝোতার মাধ্যমে সবকিছু করার চেষ্টা করি যেন ঝুট ঝামেলা না হয়। গতরাত থেকেই আমি জামায়াত এনসিপির নেতাকর্মীদের সাথে আলোচনা করে বলেছি যে সম্মিলিতভাবে ব্যবসা করার জন্য। কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি। আমি ইউএনও ও ওসির সাথে কথা বলেছি। এটা একটা অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা। মিলেমিশেই কাজটি করা যেত।’

এই বিষয়ে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, ‘দুপুরে দরপত্র জমা দেয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে। পুলিশ দ্রæত তাদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে। এখানে মারামারি বা সংঘর্ষের মত ঘটনা ঘটেনি। সুষ্ঠুভাবেই দরপত্র গ্রহণ করা হয়েছে।’

রাতে নিজের ফেসবুক পেজে এমপি আব্দুল্লাহ আল আমিন লিখেন, এনসিপির নামে বা আমার পরিচয়ে কোনো ধরনের কমিশন বাণিজ্য বা কোনো ব্যবসায়ীর থেকে অন্যায় অর্থ আদায় অথবা ঝুটসন্ত্রাস বা এসংক্রান্ত কোনো জোর জবরদস্তিমুলক অন্যায় কোনো কার্যক্রম হতে দেই নাই, হতে দেয়ার প্রশ্নও আসে না। উল্টো বারবার সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কথা বলেছি, রাজনৈতিক দলগুলোকেও অনুরোধ করেছি অপরাধীদের শেল্টার না দেয়ার জন্য। প্রশাসনকেও একই কথা বলেছি। বক্তাবলী ঘাটের দরপত্র জমা দেয়ার তারিখে ব্যবসায়ীরা দরপত্র জমা দিতে গেলে বিএনপির পরিচয়ে বেশ কয়েকজন গায়ের জোরে দরপত্র জমা দিতে বাঁধা দেয়। এ ঘটনায় এনসিপি নেতা তরিকুল, তাওহীদ প্রতিবাদ করলে তাদের উপর হামলা হয়। এসময় বক্তাবলী জামায়াতের সভাপতি আবু বকর ভাই সহ সাধারণ জনতা হামলা ঠেকাতে গেলে তাদের উপরও হামলা করা হয়। আমি স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, সরকারি সকল ইজারা/দরপত্র কার্যক্রম উন্মুক্ত এবং প্রতিযোগিতামুলক হতে হবে। এক্ষেত্রে কেউ বাধা সৃষ্টি করলে প্রশাসনকে অবশ্যই কঠোর হতে হবে। সেইসাথে যেকোনো ধরনের গুন্ডামী প্রতিরোধ করা হবে। অন্যায়ভাবে মানুষের অধিকার এবং রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি করতে চাইলে কাউকে ছাড় দেয়া হবেনা। আর একটা ব্যাপার স্পষ্ট, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ছাড়া দল হিসেবে কোনো দলের সাথে আমাদের কোনো ঝামেলা নাই। রাজনৈতিক মতপার্থক্য আছে, থাকবে। কিন্তু কোনো রাজনৈতিক দলকে ঢালাওভাবে বিরোধীতা আমরা করি না। আমরা রাজনৈতিক সৌজন্যতা এবং সহাবস্থানে বিশ্বাসী। তবে অপরাধী, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী যে দলেরই হোক আমরা তার বিরুদ্ধে আছি।