News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩

প্রি-পেইড মিটার বাতিল বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬, ০৯:০৯ পিএম প্রি-পেইড মিটার বাতিল বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিদ্যুৎ গ্রাহক ভোগান্তি ও দুর্নীতির প্রি-পেইড মিটার বাতিল ও পূর্বের ডিজিটাল মিটার ফেরত, বিদ্যুতের মূল্য কমানো, আন্দোলনরত গ্রাহকদের নামে দায়েরকৃত সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, বিদ্যুৎ খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির শে^তপত্র প্রকাশ, বিদ্যুৎ খাতকে ব্যাক্তি মালিকানায় তৎপরতা বন্ধ, বিদ্যুৎ সংকটের জনবান্ধব সমাধান এবং বিদ্যুৎ গ্রাহকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে ‘‘বিদ্যুৎ গ্রাহক অধিকার রক্ষা জাতীয় কমিটির’’-এর উদ্যোগে বিদ্যুৎ মন্ত্রীর বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান ও ঢাকা বিদ্যুৎ ভবন প্রাঙ্গনে মিট দ্যা প্রেস কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘‘বিদ্যুৎ গ্রাহক অধিকার রক্ষা জাতীয় কমিটির’’ আহবায়ক- এডভোকেট মাহাবুবুর রহমান ইসমাইল এর সভাপতিত্বে স্মারকলিপ ও ঢাকা বিদ্যুৎ ভবনের সামনে মিট দ্যা প্রেস কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষুব্ধ গ্রাহকদের দাবির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সামাজিক ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক আ ফ ম রাজিবুল আলম ইভান, গোলাম কুদ্দুস আইয়ুব, মুত্তাকিন খান শামিম, মাহফুজ হোসেন, আবেদ হোসেন পলাশ, এস এম সাজিম আহমেদ, রাগীব আহসান রেজভী, আবু তাহের, আবেদুর রহমান পলাশ, হাজী রুহুল আমিন-সহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ ও দেশের বিভিন্ন শীর্ষ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

মাহবুবুর রহমান ইসমাইল বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ৬ মাসের মধ্যেই ১৫.৬ শতাংশ বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করেছে। মূল্য বৃদ্ধির পাশাপাশি স্ল্যাবের কৌশলে গ্রাহকদের কাছ থেকে ৩ থেকে ৪ গুণ পর্যন্ত অতিরিক্ত বিল আদায় করা হচ্ছে। এতে সাধারণ গ্রাহকদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বিদ্যুৎ খাত দুর্নীতি ও লুটপাটের অন্যতম ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল। ফ্যাসিস্ট সরকারের ৩১টি প্রকল্প বাতিল করা হলেও গ্রাহকদের ভোগান্তি ও শোষণের প্রি-পেইড মিটার প্রকল্পটি এখনো বাতিল করা হয়নি। বরং বর্তমান সরকার এই প্রকল্প বাস্তবায়নে তৎপর হয়ে উঠেছে। ডিজিটাল মিটার খুলে প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের ফলে গ্রাহকরা মিটার চার্জ, ডিমান্ড চার্জ, সার্ভিস চার্জ, ভ্যাটসহ বিভিন্ন ধরনের অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করছেন। মিটার নষ্ট, ব্যাটারি শেষ, সার্ভার ডাউন, কারিগরি ত্রুটি কিংবা রিচার্জ শেষ হওয়ার কারণে গ্রাহকদের নানা হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। দেশে প্রায় ৫ কোটি বিদ্যুৎ গ্রাহকের বিদ্যমান ডিজিটাল মিটার পরিবর্তন করা হলে, প্রতি মিটারের গড় মূল্য ৩ হাজার টাকা হিসেবে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হবে। এর সঙ্গে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী প্রি-পেইড মিটার প্রকল্পের প্রায় ২৯ হাজার কোটি টাকা ব্যয় যুক্ত করলে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক ক্ষতির প্রশ্ন সামনে আসে। আমাদের প্রশ্নÑএই বিপুল অর্থ, মিটার পরিবর্তনে ব্যয় না করে বিদ্যুৎ সংকট সমাধান ও বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে ব্যয় করা হচ্ছে না কেন?

বিদ্যুৎ গ্রাহকদের ডিজিটাল মিটার গুলো খুলে এই প্রিপেইড মিটার লাগানোর কারণে গ্রাহকদের কোন লাভ নাই, গ্রাহকদের অনিচ্ছাকৃতভাবে এই প্রিপেইড মিটার লাগানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। এর সংগে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী সংসদে বক্তব্য অনুযায়ী গ্রাহকদের ২৯ হাজার কোটি টাকার প্রিপেইড মিটার ব্যয় আর গ্রাহকদের ডিজিটাল মিটারের ১৫ হাজার কোটি টাকা- মোট ৪৪ হাজার কোটি টাকা কার স্বার্থে ধ্বংস করা হচ্ছে জাতি জানতে চায়। আমাদের প্রশ্ন ৪৪ হাজার কোটি টাকা এই ভাবে মিটারের পিছনে খরচ করা কি দরকার? নাকি বিদ্যুৎ সংকট সমাধান করা দরকার? এই টাকা বিদ্যুৎ উন্নয়নের জন্য খরচ করা হলে বিদু্যুতের মূল্য যেমন কমবে এবং বিদ্যুৎ সংকটেরও সামাধান হবে। এছাড়াও প্রিপেইড মিটার দুর্নীতি নিয়ে দুদুকে মামলা চলমানরত এবং মহামন্য সুপ্রিম কোর্ট, বাংলাদেশ এ রিট পিটিশন চলমান ও রংপুরে দেওয়ানি আদালতে মামলা বিধ্যমান আছে।

আমাদের দাবিসমূহ হলো, বিদ্যুৎ গ্রাহক ভোগান্তি ও দুর্নীতির প্রি-পেইড মিটার বাতিল এবং পূর্বের ডিজিটাল মিটার ফেরত দিতে হবে। বিদ্যুতের মূল্য কমাও এবং বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে হবে।  প্রিপেইড মিটার আন্দোলনে নেতৃবৃন্দের নামে দায়েরকৃত সকল মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। বিদ্যুৎ খাত ব্যক্তি মালিকানায় হস্তান্তরের চক্রান্ত প্রতিরোধ এবং বিদ্যুৎ গ্রাহকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর শনিবার দেশব্যাপী মশাল মিছিল এবং আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে গোল টেবিল বৈঠক কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়।