শীত আসলেই খেজুর রস খেতে দূরদূরান্তে ছুটে যায় ভোজন প্রেমীরা। শীতের তীব্রতা বাড়লেও তা উপেক্ষা করেই ভোর সকাল কিংবা রাত্রিবেলায় বাগানে ছুটে যান। উদ্দেশ্য হচ্ছে খেজুরের রসের স্বাদ পাওয়া। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় আর ইট-পাথরের নগরে এখন রসও প্রায় বিলাসিতার মতো। তবে,নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মো.শহিদ মোল্লা (৪৬) নামের এক গাছি মানুষের রসের চাহিদা মেটাচ্ছেন। তার বাগানের রসের টানে বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রতিদিন মানুষ এসে ভিড় জমান। অথচ তিনি মানুষের চাহিদা অনুযায়ী রস দিতে ব্যর্থ হচ্ছেন বলে জানান।
মো. শহিদ মোল্লার জন্মস্থান ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলায়। তার পিতার নাম মৃত বজলুর রহমান মোল্লা। দীর্ঘ ৯ বছর ধরে বিভিন্ন জেলায় ঘুরে ঘুরে খেজুর বাগান ক্রয়ের মাধ্যমে মৌসুমি ব্যবসা করে যাচ্ছেন শহিদ। এই গাছি এবছর সোনারগাঁয়ের বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হামছাদী এলাকার ১০ শতাংশ জমির খেজুর বাগান ক্রয় করেছেন। বাগানটির দাম দিয়েছেন ৫০ হাজার টাকায়। মৌসুমি চুক্তিতে ক্রয়কৃত বাগানটিতে মোট ২৭টি গাছ রয়েছে। সেই গাছগুলো থেকে প্রতিদিন অন্তত ৬০-৬৫ লিটার রস নামিয়ে ক্রেতাদের নিকট বিক্রি করছেন বলে জানিয়েছেন। লিটার প্রতি ক্রেতাদের নিকট হতে ১৫০-১৬০ টাকা মূল্য রাখেন।
গাছি মো. শহিদ মোল্লা জানিয়েছেন, ছামছাদী এলাকার স্থানীয় রাকিব নামের এক ব্যক্তির সহযোগিতায় তার সঙ্গে পার্টনারশিপ চুক্তিতে ৫০ হাজার টাকায় বাগানটি কিনেছি। ডিসেম্বর হতে রস নামানো শুরু করে এখন পর্যন্ত ২ লাখ টাকার মতো বিক্রি হয়েছে,এবং আরও ১ লাখ বিক্রি করতে পারবো বলে আশাবাদী। আমি ভোর সকাল আর রাত ৯ টার সময়ে রস নামিয়ে থাকি। যার প্রতি লিটার ১৫০-১৬০ টাকা ধরে মানুষকে দেই।
আমাদের বাগানে দূরদূরান্ত থেকে বহু মানুষ রসের জন্য আসেন। কিন্তু আমি তাদের চাহিদা মতো রস দিতে পারছি না। এখানে খেজুর বাগান সংখ্যা কম থাকায় ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
তিনি বলেন, রসের ব্যবসা মাত্র তিন মাসের। পুরো বছর এই তিন মাসের মৌসুমের অপেক্ষায় থাকি। ডিসেম্বর হতে গাছের পরিচর্যায় আমি এবং আমার পার্টনার কাজ করছি।
কৃষি কাজের জন্য উপজেলা কৃষি অফিস হতে সাহায্য কিংবা পরামর্শ পেয়েছে কিনা জানত চাইলে তিনি বলে, আমি কৃষি অফিসের কাউকে চিনি না এবং তাদের সঙ্গে যোগাযোগও করতে পারিনি।
বন্ধুকে নিয়ে সঙ্গে নিয়ে রস খাবার উদ্দেশ্য এসে না পেয়ে ফিরে যাচ্ছিলো যুবক রাকিবুল। তিনি জানান, সোনারগাঁয়ে রস পাওয়া যাবে খবর নিয়ে রায়েরবাগ থেকে এসেছিলাম। তবে আমরা অবেলায় আসার কারণে আজ পাইনি। অন্য কোনোদিন সময় অনুযায়ী আবারও আসবো।
সোনারগাঁ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সাইদ তারেক বলেন, আমরা নিয়মিত কৃষকদের খোঁজখবর নিচ্ছি। মূলত বর্তমানে প্রনোদনা কম কম রয়েছে। তবুও আমরা কৃষকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছি। আমি খেজুর রস বানানের খোঁজ নিবো।










































আপনার মতামত লিখুন :