News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর, ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

বক্তাবলীর মাটি কাঁটা সিন্ডিকেট পলাতক


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: অক্টোবর ৯, ২০২৬, ০৮:৩৩ পিএম বক্তাবলীর মাটি কাঁটা সিন্ডিকেট পলাতক

নারায়ণগঞ্জের বক্তাবলীতে মাটি কাঁটা সিন্ডিকেট রীতিমত অধরা হয়ে উঠেছিলো। পুলিশ প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছিলো, স্থানীয় সংসদ সদস্য আপত্তি তোলা এবং নির্দেশ দেয়ার পরেও বন্ধ হচ্ছিলো না মাটি উত্তোলন। সবশেষ এনসিপি নেতা তাওহীদুল ইসলামের উপর হামলার পর পরিস্থিতি যেন অনেকটাই পাল্টে গেছে। প্রথমবারের মত বক্তাবলীতে মাটি কাঁটার মেশিন জব্দসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে নৌ পুলিশ। 

গত সোমবার দিবাগত রাত ১ টায় ধলেশ্বরী নদীর পূর্ব প্রান্তে মাটি কাঁটার সময় নৌ পুলিশ অভিযান চালায়। এসময় প্রায় ২৯ লাখ টাকা সমমূল্যের মাটি কাঁটার সরঞ্জাম জব্দ করে। সেই সাথে গ্রেপ্তার করা হয় চারজনকে। স্থানীয়রা জানিয়েছে, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আরও বেশ কয়েকজন পালিয়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে এই মাটি কাঁটার সাথে জড়িত অসাধু ব্যবসায়ীরা যাদের মাসোয়ারা দিয়ে মাটি কাটছিলেন। তারা এখন গা ঢাকা দিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তাওহীদুল ইসলামকে রক্তাক্ত করার পরেই থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলা দায়েরর পর পুলিশ ও ডিবি অভিযান পরিচালনা করে বক্তাবলীতে। মামলায় গ্রেপ্তার এড়াতে আসামিদের অনেকেই মুন্সিগঞ্জের বালুচর ইউনিয়নে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন বলে শোনা যায়। কারও কারও বাসায় খোঁজ করেও তাদের বাসায় পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ গ্রেপ্তার এড়াতে অন্যত্র সরে ছিলেন তারা।

একদিকে মাটি কাঁটার প্রতিবাদ করায় এনসিপি নেতার উপর হামলা। অন্যদিকে মাটি কাঁটা বন্ধের ঘোষণার পর বক্তাবলীর সিপাইপাড়ায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বৈঠকে ডিবির হানা। উভয় ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির ইমেজ ক্ষুন্ন হয়েছে প্রবলভাবে। বেকায়দায় পড়েছেন নেতাকর্মীরা। বিরোধী দলের শক্ত প্রতিবাদের কারণে কিছুটা কোনঠাসা হয়ে পড়েছেন ক্ষমতাসীনরা। 

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, একদিকে এনসিপি নেতাদের প্রতিবাদ, প্রশাসনের উপর চাপ, বিএনপির ইমেজ রক্ষার প্রচেষ্টা এবং আইন শৃঙ্খলা বাহিনির সরব অবস্থানের কারনে পালিয়েছে মাটি কাঁটা চক্র। এনসিপি এমপি আবদুল্লাহ আল আমিন বক্তাবলীতে এসে পুলিশের উপর চাপ তৈরি করে দিয়ে যান। এরপরেও বক্তাবলীতে রাতের আঁধারে মাটি কাটছিলো অসাধু এই চক্র। পুলিশ মধ্যরাতে অভিযান পরিচালনা করার পর চারজন গ্রেপ্তার হলে পালিয়েছে এই চক্রের বাকি সদস্যরা। আশা করা যাচ্ছে এই ধারাবাহিকতা অব্যহত থাকলে সহসা আর মাটি কাঁটার সাহস করবে না এই চক্রটি।