News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

আদালতপাড়ায় আইনজীবীদের উত্তাপ ছড়িয়েছে মহানগর বিএনপিতে


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: অক্টোবর ১০, ২০২৬, ১০:০৮ পিএম আদালতপাড়ায় আইনজীবীদের উত্তাপ ছড়িয়েছে মহানগর বিএনপিতে

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির রাজনীতিতে বর্তমানে চলছে অস্থিরতা। নারায়ণগঞ্জ আদালতের রাজনৈতিক উত্তাপ এসে আছড়ে পড়েছে মহানগর বিএনপিতেও। নারায়ণগঞ্জ আদালতের জেলা আইনজীবী সমিতির ভবনের অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে হেনস্তা ও দুই পক্ষের আইনজীবীদের মাঝে হাতাহাতির ঘটনার রেশ ধরেই এর মধ্যে হস্তক্ষেপ করেছে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু।

একটি শোকজ চিঠির মাধ্যমে আদালতের এই উত্তাপে মহানগর বিএনপি নিজেকে সম্পৃক্ত করেছে।

গত ৮ অক্টোবর মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধান ও শেখ আঞ্জুম আহম্মেদ রিফাতকে শোকজের চিঠি পাঠিয়েছেন।

চিঠি প্রাপ্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয়। অন্যথায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে দলের সকল পদ হতে অব্যাহতি প্রদান করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে।

চিঠিতে বলা হয়, ৬ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সরকার হুমায়ুন কবির এর কক্ষে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি সিনিয়র আইনজীবী এবং নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহŸায়ক এবং সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের প্রবেশ করলে আনোয়ার প্রধান, পিপি আবুল কালাম আজাদ জাকির, অতিরিক্ত পিপি ওমর ফারুক নয়ন, শেখ আঞ্জুম আহমেদ রিফাত সহ আরো ৫ থেকে ৬ জন সন্ত্রাসী গালাগাল সহ হেনস্থা করেন। ঔদ্ধত্ব্যপূর্ণ আচরণের কারণ জানতে চাইলে সাখাওয়াত হোসেন খানের উপর মারমুখী হয়। এছাড়া সেদিন সাখাওয়াত হোসেন খানকে ২ ঘণ্টা আটক করে রাখা হয়েছে এবং ক্ষমা চেয়েছে বলা হয়েছে যা মিথ্যা ও বানোয়াট। ঘটনার পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা প্রার্থনার আহবান করলেও সেটা কর্ণপাত করা হয়নি।

চিঠিতে আরো বলা হয়, ২৫ আগস্ট জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে সরকারের আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় হতে অ্যাডভোকেট সুমন মিয়াকে স্পেশাল পিপি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু আপনারা অন্যায় লাভের আশায় আদালতপাড়ায় নাশকতা সৃষ্টি করে পিপির চেম্বার তালাবদ্ধ করে রেখেছেন। তাকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন যা সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।

এসব বিষয় উল্লেখ করে শোকজ প্রাপ্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্য জবাব দিতে বলা হয়। অন্যথায় তাদেরকে সাংগঠনিক ভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করে দলের সকল পদ পদবী থেকে অব্যাহতি প্রদান করার কথা উল্লেখ করা হয়।

এর জবাবে মাত্র ঘণ্টার ব্যবধানে শোকজের জবাব দিয়ে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেন অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধান।

শোকজের জবাবে তিনি সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে অনুপস্থিতির অভিযোগের বিষয়টি

অস্বীকার করে আন্দোলন সংগ্রাম এবং দলীয় কর্মসূচিতে তার ভূমিকা সহ ১২৫ দিন কারাবন্দী থাকার বিষয়টি উল্লেক করেন।

সেই সাথে ৬ অক্টোবার ঘটনায় তার ভূমিকা সম্পর্কে তিনি লিখেছেন, সাখাওয়াত হোসেন খান তার বডি গার্ড পুলিশ সদস্যের সহযোগিতায় তার নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম হতে দুইজন বহিষ্কৃত অ্যাডভোকেট এস.এম গালিব ও অ্যাডভোকেট কামাল মোল্লা অ্যাড. আজিজ মোল্লা সহ অ্যাডভোকেট সাইদুর রহমান, অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন নারায়ণগঞ্জ দায়রা জজ আদালতের বিজ্ঞ পিপির কোন ধরনের উষ্কানী ছাড়া অতর্কিত হামলা করে শারিরীক ভাবে লাঞ্চিত করে। এর প্রেক্ষিতে সাধারণ আইনজীবীরা এগিয়ে আসলে যাতে কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সে ব্যাপারে সচেষ্ট থেকেছেন। সে সাথে সাধারণ আইনজীবী কর্তৃক সাখাওয়াত হোসেন খান অবরুদ্ধ হলে তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করেন এবং অতিউৎসাহী হয়ে পিপির উপর হামলাকারী ও পুলিশ সদস্যের বিচার দাবি করেন। অনলাইন মিয়িাতে প্রচারকৃত তার বক্তব্য আংশিক প্রচারিত হওয়ায় এ নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয় এবং সুনিদিষ্ট করে কোন মিডিয়ার বক্তব্যকে সুষ্পষ্ট বর্ণনা না থাকায় এ ব্যাপারে সুনিদিষ্টভাবে ব্যাখা প্রদান করা সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করেন।

সেই সাথে স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট সুমন সংক্রান্ত সকল অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন এবং সেই সাথে বিষয়টি অ্যাডভোকেট সুমন জেলা আইনজীবী সমিতি বা অন্য কোন এখতিয়ার সম্পন্ন কর্তৃপক্ষের বরাবর লিখিত অভিযোগ করেনি বিধায় এ ব্যাপারে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান সমোচিন নয় বলে উল্লেখ করেন।

সেই সাথে অভিযোগের বিবরণ অস্পষ্ট ও সু-নির্দিষ্ট নয় এবং শোকজ নোটিশের জবাব প্রদানের জন্য ২৪ ঘন্টা সময় প্রদান প্রাকৃতিক ন্যায় বিচারের পরিপন্থী এবং ব্যক্তিগত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ বটে। নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে বিজ্ঞ আইনজীবীদের মধ্যে অভ্যন্তরীন অনাকাঙ্খিত ঘটনার বিষয়ে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব কর্তৃক শোকজ নোটিশ প্রদান করা অযৌক্তিক ও অসমীচীন বলেও তিনি শোকজের জবাবে স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করেছেন।

এদিকে এ শোকজ নিয়ে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধান গণমাধ্যমে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়েছেন।

আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেন, তিনি যদি বাথরুমেও যান তবুও তিনি মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব। তেমনি দল আনোয়ার প্রধানকে মনোনয়ন দিয়েছে বলেই সে আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হতে পেরেছে। তবে তাকে আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে শোকজ করা হয়নি তাকে সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে শোকজ করা হয়েছে।

তবে অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধান বলেন, এ ধরনের কারণ দর্শানোর নোটিশ আমাকে ব্যতিত করেছে মর্মাহত করেছে। আমরা বলতে লজ্জা হচ্ছে আইন কানুন বিধি বিধান না জানা লোকদের যখন দায়িত্ব দেওয়া হয় তখন তারা সংগঠন, দল এবং নিজের জন্যও বিপদজ্জনক।