বাবার কোটি টাকা থাকলেও নিজের কষ্টের উপার্জনের আনন্দ সম্পূর্ণ আলাদা। পারিবারিক পরিচয়ের বাইরে গিয়ে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে বা একদম শূন্য থেকে কাজ শিখতে এমন উদ্যোগ নেন অনেকে।লেখাপড়ার পাশাপাশি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক তরুণ শিক্ষার্থী নিজের ব্যক্তিগত প্রাইভেটকারে নারায়ণগঞ্জে ঘুরে ঘুরে পারফিউম বিক্রি করছেন। উদ্যোক্তা হওয়ার এমন ব্যতিক্রমী ও চমৎকার উদ্যোগ সাড়া ফেলেছে সাধারণ মানুষের মাঝেও।
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুরে সড়কের একপাশে লাল রংয়ের একটি গাড়ির সামনে দেখা যায় মানুষের জটলা। সামনে এগুতেই দেখা যায় গাড়ির ব্যাকডালায় সাজানো রয়েছে বিভিন্ন নামী কোম্পানির দামি পারফিউম। গাড়িতে পারফিউম বিক্রির বিষয়টি একেবারেই নতুন হলেও ইতোমধ্যে নজর কাড়তে শুরু করেছে সাধারণ মানুষের। অনেকেই আগ্রহী হয়ে দেখছেন পারফিউমের কালেকশন। কেউ কেউ আবার কৌতুহলী হয়ে জানতে চাইছেন গাড়িতে পারফিউম বিক্রির কারণ।
বিত্তবান পরিবারের সন্তানদের জীবনযাত্রা সাধারণত অত্যন্ত বিলাসবহুল, আভিজাত্যপূর্ণ এবং প্রাচুর্যময় হয়ে থাকে। তবে বিত্তবান পরিবারের সন্তান হয়েও উদ্যোক্তা হতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার কুতুবপুর এলাকার বাসিন্দা নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ শিক্ষার্থী হাসবুল রাইয়ান। মাহাবুবুর রহমান ও রুবিনা আক্তারের তৃতীয় সন্তান রাইয়ান শখের বশে সংগ্রহ করা পারফিউমের কালেকশন দিয়ে শুরু করেছেন পারফিউম বিক্রির ব্যবসা। নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন জনবহুল স্থানে ছুটির দিনে নিজেদের গাড়িতে বিক্রি করছেন পারফিউম।
এক ক্রেতা জানান, তিনি শিক্ষার্থী রাইয়ানের পেজ থেকে অনলাইনে পারফিউম কিনে থাকেন। এখানে গাড়ি নিয়ে এসেছেন শুনে দেখতে এসেছেন। সবাই সচরাচর এমন উদ্যোগ নেয়না। কিন্তু রাইয়ান উদ্যোক্তা হওয়ার চেষ্টা করছে এটা অনেক ভাল।
রাইয়ান জানান, ছোটবেলা থেকে পারফিউমের শখ ছিল। সেই শখ থেকেই পারফিউম সংগ্রহ শুরু করেন। ইতোমধ্যে তার কালেকশন ১ লাখের কাছাকাছি। লেখাপড়ার পাশাপাশি পারফিউম ব্যবসা শুরুর লক্ষ্যে প্রথমে ফেসবুকে পকেট পারফিউম নামের একটি পেজ খুলেন। অনলাইনে বিক্রির পাশাপাশি বিক্রি বাড়াতে সরকারি ছুটির দিনে এখন নিজে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে পারফিউম বিক্রি করছেন। অনলাইনের পাশাপাশি ছুটির দিনেও তার ভালই বিক্রি হচ্ছে বলে জানান। তিনি বলেন, মূলত পারফিউমের দাম বেশি হওয়ায় অনেকেই বডি স্প্রে ব্যবহার করেন। তিনি ক্রেতাদের সাশ্রয়ের জন্য পকেট পারফিউম বিক্রি করার উদ্যোগ নিয়েছেন। তার পরিবার থেকেও তিনি ভালো সাপোর্ট পেয়েছেন বলে জানান।
ধনীর সন্তান হয়েও রাস্তায় বা গাড়িতে পারফিউম বিক্রি করার ঘটনাটি জীবনমুখী শিক্ষা, আত্মনির্ভরশীলতা এবং ব্যবসার বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের একটি অসাধারণ উদাহরণ এমনটিই মনে করছেন সকলে।








































আপনার মতামত লিখুন :