নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহবায়ক ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের জন্মদিন ২০ আগস্ট।
তিনি সাত খুন মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবী হিসেবে দেশজুড়ে পরিচিতি পান এবং ২০১৬ সালের নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। ২২ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাঁকে নাসিকের প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয় এবং ২৫ ফেব্রুয়ারি তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
সাখাওয়াত হোসেন খানের জন্ম ২০ আগস্ট ১৯৬৯ সালে। তাঁর পারিবারিক শিকড় মুন্সিগঞ্জে। তিনি ব্যবসায়ী ফজল খান ও হোসনে আরা খানম দম্পতির তিন ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে সবার বড়।
তাঁর স্ত্রী শামীমা আক্তার, তিনিও একজন আইনজীবী। তাঁদের ছেলে শাহরিয়ার খান পড়াশোনা করছেন। তাঁর শিক্ষাজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ কেটেছে নারায়ণগঞ্জে।
তিনি নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজে পড়াশোনা করার সময় ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ আইন কলেজ থেকে এলএলবি সম্পন্ন করেন এবং আইন পেশায় যোগ দেন। ১৯৯৫ সালের ১ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ জেলা বারে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।
সাখাওয়াত হোসেন খানের রাজনৈতিক জীবনের শুরু বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলের মাধ্যমে। আশির দশকে জিয়াউর রহমানের খাল কাটা কর্মসূচি এবং ‘হ্যাঁ-না’ ভোটের সময় পোস্টার লাগানোর মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সূচনা হয়।
নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজে ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। পরবর্তী সময়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির বিভিন্ন পদে দায়িত্ব জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নারায়ণগঞ্জ জেলা পর্যায়ে দায়িত্ব পালন।
রাজনীতির পাশাপাশি আইন পেশায়ও তিনি ধীরে ধীরে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে ওঠেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতিতে একাধিকবার সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামে সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন।
সাখাওয়াত হোসেন খানের সবচেয়ে বড় জাতীয় পরিচিতির কারণ নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলা। ২০১৪ সালে নারায়ণগঞ্জে প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজনকে অপহরণ ও হত্যার ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।
ঘটনার পর তিনি অভিযুক্ত র্যাব সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং হত্যার বিচার দাবিতে হাইকোর্টে রিট করেন। পরবর্তীতে তিনি নিহতদের পরিবারের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে মামলার আইনি লড়াইয়ে যুক্ত হন। এ কারণেই তিনি ‘সাত খুন মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী’ হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি পান।সাত খুন মামলায় তাঁর ভূমিকার কারণে তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও সংবাদে এসেছিল।
সাখাওয়াত হোসেন খান ২০১৬ সালের নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী হন। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী। নির্বাচনে আইভী জয়ী হন এবং সাখাওয়াত পরাজিত হন।
এ নির্বাচন তাঁকে নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় রাজনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে আসে।
২০১৬ সালের সিটি নির্বাচনের পর তিনি মহানগর বিএনপির রাজনীতিতে আরও সক্রিয় হন। পরবর্তীতে তিনি মহানগর বিএনপির বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০২২ সালে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক হন। আহ্বায়ক হওয়ার পর মহানগরের বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারের চেষ্টা করেন।
বর্তমানেও তিনি নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে পরিচিত।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মামলা করা হয়েছিল এবং তিনি একাধিকবার কারাবরণ করেছেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এসব মামলা থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন।




































আপনার মতামত লিখুন :