News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩

কাঁচপুর বাসটার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পের দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি প্রকাশিত: জুলাই ২৬, ২০২৬, ০৮:৪৯ পিএম কাঁচপুর বাসটার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পের দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই

ঢাকা শহরের যানজট কমাতে এবং ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়নের ভাবনায় রাজধানীর সায়দাবাদে অবস্থিত বাসটার্মিনালকে সোনারগাঁয়ের কাঁচপুরে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সরকারি অনুমোদনের কয়েকদিনের মাথায় যেখানে টার্মিনাল নির্মিত হবে সেই স্থান পরিদর্শনে এসে আগামী ছয় মাসের ভেতর কার্যক্রম সম্পূর্ণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ।

তবে প্রতিশ্রুতির এক মাস অতিবাহিত হওয়া সত্বেও দৃশ্যমান কাজের অগ্রগতি দেখা যায়নি। এর ফলে বেধে দেওয়া সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন হবে কিনা জনসাধারণের মনে প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বাসটার্মিনালের জন্য কাঁচপুরের যে জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে সেই খোলা মাঠের বালু আওয়ামী লীগ শাসনামল থেকেই ভরাট রয়েছে।

২৪ জুন বর্তমান সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী স্থানটি পরিদর্শনে আসার পরবর্তীতে মাঠের চারপাশের গাইড ওয়াল নির্মাণের পিলার,নির্মিত বেশ কয়েকটি পিলারে সাটার করা এবং গাইড ওয়াল নির্মাণ করা হয়েছে।

নির্মাণ কাজের ধীরগতির প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে স্থানীয়রা। তাদের ভাষ্য, কাঁচপুরে বাসটার্মিনাল হবে এমন স্বপ্ন তাদের বেশ পুরানো। আওয়ামী লীগ সরকার আমলে এটির উদ্যোগ নেওয়া হলেও মাঠে ভালু ভরাট পর্যন্ত সমাপ্ত করা হয়েছিল। তবে দীর্ঘ একটা গ্যাপের পরবর্তীতে বর্তমান নির্বাচিত বিএনপি সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতির সময়সীমায় কার্যক্রম শেষ হবে কিনা তা নিয়ে সন্দিহান তারা।

নির্মাণাধীন বাসটার্মিনাল সংলগ্ন বাসিন্দা সেলিম মিয়া বলেন, অনেক আগ থেকে এখানে বাসটার্মিনাল হবে বলে শুনে যাচ্ছি। আওয়ামী লীগ আমলে কাজ শুরু হয়ে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, এবং বর্তমান সরকার ছয়মাসের মধ্যে দ্রুত গতিতে কাজ সম্পন্ন করার কথা জানিয়েছেন। কিন্তু যে গতিতে কাজ চলমান রয়েছে তাতে ছয়মাসে শেষ হবে বলে আমাদের সন্দেহ রয়েছে। যত দ্রুত কাজ সম্পন্ন হবে আমাদের জীবনযাত্রার মান ততই উন্নত হবার সম্ভাবনা তৈরি হবে। এছাড়াও আমাদের এলাকাটা অতি নিচে এলাকা হবার সুবাদে সামান্য বৃষ্টি হলেও আমরা পানির নিচে তলিয়ে যাই। তাই সরকার এই কাজের সঙ্গে সঙ্গে আমার সড়কের ড্রেনের দিকে সুনজর দিলে আমরা উপকৃত হতাম।

আব্দুর রহমান নামের আরেকজন বলেন, বাসটার্মিনালের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে দীর্ঘদিন ধরে তার কাজ খুবই ধীর গতিতে হতে দেখছি। মন্ত্রী হতে ছয়মাসের যে কথা বলা হয়েছে সেই হিসেবে কাজের অগ্রগতি দৃশ্যমান চোখে পড়ছে না। আমরা শুনেছি এই টার্মিনালটি ডিজিটাল টাইপ হবে কিন্তু টার্মিনালের আশপাশের বাসিন্দা হিসেবে আমাদের যে সমস্যাগুলো রয়েছে এবং আমাদের জীবনযাত্রায় যেসব বাঁধা রয়েছে যেমন সড়ক ও ড্রেন সমস্যা,এই সমস্যাগুলোর প্রতি সরকারের নজর দেওয়া উচিত।

তথ্য নিয়ে জানা গেছে, টার্মিনালটি হস্তান্তরের প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব বাংলাদেশ নৌবাহিনীর আওতাধীন একটি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। আর ব্যয়ের আওতায় রয়েছে ৪ হাজার ১২ বর্গমিটার ঢালাই ও টাইলস বসানো, ১৫ হাজারের বেশি প্রোফাইল শিট দিয়ে শেড নির্মাণ, টিকিট কাউন্টার,টয়লেট ও অফিস কক্ষসহ আনুষঙ্গিক স্থাপন নির্মাণ করা।  এদিকে আন্তঃজেলা বাসটার্মিনাল কাঁচপুরের যেই বালুর মাঠটিতে বাস্তবায়িত হবে সেই মাঠটি বর্তমানে পুরোপুরি ফাঁকা দেখা গিয়েছে। মাঠ খালি থাকার সুবাদে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের মাধ্যমে এবং খেলাধুলা করার মতো পরিবেশ তৈরিতে পরিণত হয়েছে। অর্থাৎ দিবারাত্রি মানুষের আনাগোনা চোখে পড়ে।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী পরিচালক আব্দুর রহিম জানান, প্রকল্পটি আমাদের আওতায় নেই। এটির তথ্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন দিতে পারবেন।

নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান জানান, বাসটার্মিনাল প্রকল্পের বক্তব্যের বিষয়ে মন্ত্রী বলতে পারবেন কারণ এটি আমাদের আন্ডারে নয়।

এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পরিবহনের মহাব্যবস্থাপনা পরিচালক জয়নাল আবেদীন জানান, আমি সবেমাত্র দায়িত্ব গ্রহণ করায় বাসটার্মিনাল হস্তান্তর প্রকল্পটির সম্পর্কে তেমন ধারণা নেই। তবে বিষয়টি আমি জানার চেষ্টা করবো।