নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের এমপি ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু বলেছেন, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নারায়ণগঞ্জবাসীর প্রাপ্য ছিলো; এটা নারায়ণগঞ্জবাসী বিজয়। নারায়ণগঞ্জবাসী সকলে একসাথে মিলে অর্জন করতে পেরেছি। রাজউক থেকে আলাদা হয়ে নরায়ণগঞ্জবাসী সম্মানের জায়গায় চলে আসছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এবং মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই এত তাড়াতাড়ি সাড়া দেয়ার জন্য।
শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ শহরের চেম্বার ভবনে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। মুস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপুর প্রচেষ্টায় নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অনুমোদন হওয়ায় তাকে এই সংবর্ধনা দেয়া হয়। সেই সাথে নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ হওয়াতে ব্যবসায়ীরা রাজউকের অত্যাচার থেকে মুক্তি পেয়েছেন বলে দাবী করেন।
মুস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু বলেন, আমাকে উৎসাহ দিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা সকলে মিলেই আমাকে সহযোগিতা করেছেন। সকলে মিলে আমরা একটি সুন্দর নারায়ণগঞ্জ গড়ে তুলবো। রাজউক অনেক বড় সংস্থা। তারা অনেক ভালো কাজ করেছেন। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ রাজউকের আন্ডারে থাকলে যে পরিমাণ জনবল প্রয়োজন সেটা ছিলো না। নারায়ণগঞ্জ কর্তৃপক্ষ হওয়াতে রাজউকের থেকে আমরা আরও বেশি সহযোগিতা পাবো।
তিনি আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জবাসী অবহেলিত ছিলো। সরকারি জমিগুলো উদ্ধার করে খেলার মাঠ করার জন্য। রাস্তা দখল করে রাখা হয়েছে প্ল্যান ছাড় বাড়ি নির্মাণ করা হচ্ছে। প্ল্যানিংয়ের মাধ্যমে বাড়িগুলো যেন সুন্দরভাবে হয় এটা নারায়ণগঞ্জ কর্তৃপক্ষ চেষ্টা করবে। হাউজিং কমপ্লেক্স করছে। এসকল কমপ্লেক্সগুলো যখন অনুমোদ দেয়া হয় তখন নাগরিক সুবিধার জন্য তাদের বিভিন্ন শর্ত দেয়া হয়। কিন্তু এসকল শর্ত তারা মানে না। তারা কৃষিজমি দখল করে ফেলছে। নারায়ণগঞ্জ কর্তৃপক্ষ থাকলে আমরা এসকল বিষয় থেকে মুক্ত থাকবো।
নারায়ণগঞ্জকে এ ক্যাটাগরি হিসেবে রূপান্তর করতে হবে উল্লেখ করে দিপু বলেন, বিগত সরকারের সময়ে বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য বিধিনিষেধ জারি করেছিলো। শুধুমাত্র ঢাকাকে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছিলো। যেটা নারায়ণগঞ্জবাসীকে আরও বেশি অবহেলিত করেছিলো। নারায়ণগঞ্জকে সুন্দর শহর হিসেবে গড়ে তুলবো। নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ব্যবসায়ী সংগঠন। ব্যবসার সাথে আমরা যদি মানুষের কল্যাণে না আসতে পারি শুধুমাত্র ব্যবসা করে নিজের পকেট ভরলে সার্থকতা থাকে না। মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে। নারায়ণগঞ্জ বি ক্যাটাগরির জেলা। এটা নারায়ণগঞ্জের জন্য অপমান। আমরা নারায়ণগঞ্জকে এ ক্যাটাগরির জেলা করতে চাই।
শহরের যানজট দূর করা ও লিংক রোডে ফুটওভার ব্রীজের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে দিপু বলেন, চাষাঢ়া মোড়ে কিছু সরকারি জায়গা আছে যেটা একটা সংস্থার কাছে রয়েছে। তাদের সাথে কথা হয়েছে তারা রাজী হয়েছে এই জায়গাটা ছেড়ে দিবে। চাষাঢ়ার যানজট যেন দূর করা যায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধির সাথে কথা বলে একসাথে মিলে চেষ্টা করবো। আমি ফুটওভার ব্রীজের জন্য সড়ক বিভাগের সাথে কথা বলেছি। এগুলো ছোট কাজ কিন্তু অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন সময় ভ্যাট দিতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছে। কোনো রকমের চাপ প্রয়োগ করা না হয় সে লক্ষ্যে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। যারা নতুন করে ব্যবসা করতে আসছেন তাদের যেন লোনের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করা যায় আমরা সরকারের সাথে কথা বলছি। আশা করছি নারায়ণগঞ্জকে আমরা সুন্দর ও পরিপূর্ণ শহর হিসেবে রূপান্তরিত করতে পারবো। আমরা নারায়ণগঞ্জের সফলতা দেখতে পাবো।
জানা গেছে, প্রাচ্যের ড্যান্ডিখ্যাত বাণিজ্য নগরী নারায়ণগঞ্জ অর্থনৈতিকভাবেসমৃদ্ধ ও গুরুত্বপূর্ণ একটি জেলা হলেও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) তদারকির কারণে পরিকল্পিত শহর হিসেবে গড়ে উঠেনি এমন অভিযোগ ছিল দীর্ঘদিনের। বিষয়টি অনুধাবন করে গত এক বছর ধরেই নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুর নেতৃত্বে একটি ব্যবসায়ী দল গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তৎকালের প্রশাসক ড. আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে নারায়ণগঞ্জকে আলাদা একটি কর্তৃপক্ষ গঠনের তাগিদ দেন। এছাড়া জেলা প্রশাসকের সঙ্গেও একাধিক বৈঠকে এ বিষয়টি নজরে আনেন দিপু ভূঁইয়াসহ ব্যবসায়ীরা।
সর্বশেষ গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর প্রায় ১ হাজার ব্যবসায়ীর উপস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের বার্ষিক সাধারণ সভাতেও নারায়ণগঞ্জে আলাদা কর্তৃপক্ষ গঠনের জোরালো দাবি জানানো হয় সেদিনও উপস্থিত ব্যবসায়ীরা এটাকে সমর্থন দেন।



































আপনার মতামত লিখুন :